কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা আনহেল দি মারিয়া। করিন্থিয়ানসের কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ার পর আবেগঘন মুহূর্তে দাঁড়িয়ে অবসরের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই উইঙ্গার।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি দি মারিয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও ছিল বিশেষ তাৎপর্যের। করিন্থিয়ানসের মাঠেই ১২ বছর আগে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোল আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিল এবং পরবর্তীতে দলটি পৌঁছে গিয়েছিল ফাইনালে। সেই স্মৃতিবিজড়িত মাঠেই এবার ক্লাব ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো তাঁর দলের।
শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে করিন্থিয়ানসের কাছে হারের পর ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দি মারিয়া নিজের হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল ভিন্ন কিছু এবং তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলেও জানান তিনি।
ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া বক্তব্যেও ম্যাচের ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন তারকা। তাঁর মতে, রোজারিও সেন্ট্রালের গোল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু দল যেভাবে পরিকল্পনা করেছিল ম্যাচটি সেভাবে এগোয়নি। সুযোগ কাজে লাগাতে না পারাই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য তৈরি করেছে।
দীর্ঘ ইউরোপীয় অধ্যায় শেষ করে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালে ফিরেছিলেন দি মারিয়া। এর আগে ইউরোপে প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ ও জুভেন্টাসের মতো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের অংশ ছিলেন।
জাতীয় দলের হয়ে দি মারিয়ার সবচেয়ে স্মরণীয় সময়গুলোর একটি ছিল ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ। কোপা আমেরিকার ফাইনালে তাঁর গোলেই ব্রাজিলকে হারিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মহাদেশীয় শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। পরের বছর কাতার বিশ্বকাপেও তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে গোল করে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করেন।
রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পরও তাঁর পারফরম্যান্সে অভিজ্ঞতার ছাপ দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে ৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই সময়ে করেছেন ১৪টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও সাতটি গোল।
দি মারিয়ার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। চুক্তির পুরো সময় শেষ করলে তখন তাঁর বয়স হবে ৩৯ বছর। ফলে এখনই অবসর নেবেন, নাকি আরও কিছুদিন মাঠে থাকবেন—সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তাঁর ওপর নির্ভর করছে।
তবে করিন্থিয়ানসের কাছে হারের পর তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছেন। শৈশবের ক্লাবে ফিরে নিজের ফুটবলযাত্রার শেষটা কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্তও হয়তো খুব বেশি দূরে নয়।









