বিজয় দিবসে বিটিভিতে ‘অক্ষয় ইতিহাস’ অনুষ্ঠান

মহান বিজয় দিবসের শুভ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) উপস্থাপন করছে নিজস্ব প্রযোজনায় বিশেষ অনুষ্ঠান ‘অক্ষয় ইতিহাস’, যা দেশের স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে সঙ্গীতের মাধ্যমে। এই অনুষ্ঠানটি কেবলমাত্র একটি সংগীত অনুষ্ঠান নয়; এটি চার প্রজন্মের শিল্পীদের সৃজনশীল মিলনের ফল, যা দর্শকদের জন্য একটি অভিজ্ঞতামূলক সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে গড়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দশটি সম্পূর্ণ নতুন গান, যেগুলোর কথাগুলো রচনা করেছেন বিশিষ্ট গীতিকার ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অধিরা জাহান। গানগুলোর সুর ও সঙ্গীত বিন্যাস করেছেন খ্যাতনামা সুরকার আলম আরা মিনু, যিনি সঙ্গীতের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। গানগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলেন বাংলাদেশের কিছু সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ কণ্ঠশিল্পী, যেমন সামিনা চৌধুরী, ফাহমিদা নাবি, রিজিয়া পারভিন, রুমানা ইসলাম, আগুন, আলম আরা মিনু, রাজীব, মুহিন, মারুফা তৃষ্ণা, সোযিব, সুকন্যা, স্বার্লিপি, রায়া, অনন্যা, মাউরি, এবং লাবণী। এছাড়াও অসাধারণ প্রতিভাধর উজ্জল তার অনন্য কণ্ঠের ছোঁয়া দিয়েছেন সঙ্গীতের বাঁধনকে সমৃদ্ধ করার জন্য।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেছেন অধিরা জাহান, যিনি প্রতিটি সেগমেন্টে প্রাণ ও রঙ তুলেছেন। তিনি বলেন, “বিটিভি সবসময় আমার সৃজনশীল যাত্রার কেন্দ্রবিন্দু। ২০০৪ সালে ছোট শিল্পী হিসেবে এই চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে প্রথমবারের মতো কাজ শুরু করেছিলাম। এর পর বহু প্রজেক্ট করেছি, কিন্তু অক্ষয় ইতিহাস আমার জীবনের এক অন্যতম গৌরবময় অর্জন।”

সুরকার আলম আরা মিনু মন্তব্য করেছেন, “এই কাজ আমাকে সঙ্গীতের প্রতি আরও নিবেদিত করে তুলেছে। প্রতিটি শিল্পীই জানিয়েছেন যে, গানের কথা ও সুরের মিল নিখুঁতভাবে পুরো পরিবেশনা জুড়ে গিয়েছে। এ গানগুলো তাদের অভিনয়কে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।”

শিল্পী সামিনা চৌধুরী শেয়ার করেছেন, “এই স্নিগ্ধ কথার গানগুলো গেয়ে অপার আনন্দ অনুভব করেছি।” ফাহমিদা নাবি যোগ করেছেন, “আমাদের দেশে দুইজন নারী—একজন গীতিকার এবং একজন সুরকার—মিলে এমন সমৃদ্ধ ও অনন্য অনুষ্ঠান তৈরি করেছে, এটা সত্যিই হৃদয়কে আনন্দ দেয়।”

বিটিভি আজ, ১৬ ডিসেম্বর, এই বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে, যা দর্শকদের patriotic অনুভূতি, শিল্পের অনন্য রূপ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার অম্লান ঐতিহ্যকে এক ঝলমলে যাত্রায় নিয়ে যাবে।