খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই মে ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে র্যাব-১১-এর একটি গোয়েন্দা দলের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৫ মে, ২০২৬) বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে শহরের দেওভোগ লিচু বাগ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের অতর্কিত হামলায় র্যাবের তিন সদস্য গুরুতর জখম হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
Table of Contents
র্যাব-১১ সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে একটি গোয়েন্দা দল সাদাপোশাকে দেওভোগ লিচু বাগ এলাকায় তথাকথিত ‘মাদকের আস্তানা’ রেকি করতে যায়। গোয়েন্দা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে, এতে তিন সদস্য রক্তাক্ত জখম হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে দ্রুত রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
হামলায় আহত র্যাব সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিচে তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রদান করা হলো:
| ক্রমিক | নাম ও পদবি | আঘাতের প্রকৃতি | বর্তমান অবস্থান |
| ০১ | নজিবুল (উপপরিদর্শক – এসআই) | মাথা ও শরীরে গুরুতর জখম | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| ০২ | মাহী (২৫) | শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম | নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল |
| ০৩ | ইব্রাহিম (২৫) | শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম | নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল |
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) জহিরুল ইসলাম জানান, আহতদের প্রত্যেকের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। বিশেষ করে এসআই নজিবুলের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে র্যাব-১১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন তাৎক্ষণিক হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, ওই এলাকায় র্যাবের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযান চলছিল না। সাদাপোশাকে গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা যাচাই (রেকি) করতে গিয়ে তারা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মাহবুব জানান, সরকারি বাহিনীর ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই ন্যক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
বর্তমানে দেওভোগ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলা পরবর্তী বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের আস্তানা নির্মূল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য