সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কের র্যাব-১২ এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাটিকুমরুল এলাকা থেকে দুই যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাড়াশের দিকে যাচ্ছিল। র্যাব-১২ কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস সিএনজিটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায় এবং ভেতরে থাকা তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তারা হলেন সলঙ্গা এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সোরমান হোসেন (৩৫) এবং একই এলাকার আঙ্গারু গ্রামের কাঠমিস্ত্রি গোবিন্দ সূত্রধর (৪০)। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, ফলে ওই এলাকায় সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যায়। তিনি আরও জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা হয় এবং পরবর্তীতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে পরিচিত। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং স্থানীয় যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ত এই মহাসড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে, যা যাত্রী নিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের স্বজনরা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। এলাকাজুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
