দক্ষিণ লেবাননে গত এক সপ্তাহে ২২০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইল। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা আইডিএফ সদস্যদের ওপর হামলার প্রস্তুতি ও তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, গত সাত দিনে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২২০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা আরও জানায়, এই সময়ের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর ৪৪০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো, অবস্থান ও তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনা। যদিও হতাহতের সংখ্যা এবং হামলার পরিণতি নিয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক কোনো যাচাইয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লেবানন ও ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় টমি পিগোট জানান, ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দুই দিনের সংলাপ শেষ হয়েছে এবং তা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নতুন আলোচনার পর আরও ৪৫ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানো হলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। এর আগে ২৮ মার্চ ইরানে মার্কিন বাহিনীর বিমান অভিযান শুরুর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। দক্ষিণ লেবাননে প্রায় দেড় মাস ধরে চলা সামরিক তৎপরতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার ধারাও চলছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনাপ্রবাহের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহত হিজবুল্লাহ যোদ্ধার দাবি | ২২০ জনের বেশি |
| হামলার লক্ষ্যবস্তু | ৪৪০টির বেশি |
| যুদ্ধবিরতির প্রথম ঘোষণা | ১৬ এপ্রিল |
| নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধি | ৪৫ দিন |
| সংলাপের স্থান | ওয়াশিংটন |
| সামরিক অভিযান শুরুর তারিখ | ২ মার্চ |
