খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৪:৩ পিএম

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের মতো অত্যন্ত গতিময় ও সুশৃঙ্খল প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। রাউন্ড অব ৩২-এর এমন একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে কৌশলগত কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝুঁকি নিতে একদমই রাজি নন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। স্বভাবতই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মাঝে এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল—নেইমার জুনিয়র কি এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুর একাদশে ফিরছেন? তবে ভেতরের খবর হলো, সেই উত্তর আপাতত নেতিবাচক।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের পর প্রথম একাদশের আটজন নিয়মিত ফুটবলারকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। তাঁদের ধকল সামলাতে জিমে বিশেষ রিকভারি সেশনে পাঠানো হয়। তবে মাঠের অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রায়ান ও ডগলাস সান্তোসের মতো তারকারা। শনিবার নিউ জার্সির বেস ক্যাম্প ছাড়ার আগে শেষ মুহূর্তের ট্যাকটিক্যাল অনুশীলনে অবশ্য পুরো স্কোয়াডই অংশ নেয়। এরপরই আনচেলত্তির দল হিউস্টনের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়, যেখানে জাপানের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করে দলে ফিরলেও নেইমারের শতভাগ ম্যাচ ফিটনেস এখনও ফিরে আসেনি। দলের ফিটনেস ট্রেইনাররা কোচিং স্টাফকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, টানা ৯০ মিনিট হাই-ইনটেনসিটি ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক সক্ষমতা এই ফরোয়ার্ড এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারেননি। নকআউট পর্বের ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না কার্লো আনচেলত্তি।
জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে শুরুর একাদশে না রেখে সাইড বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্ট। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ম্যাচের পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে সুপার-সাব বা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামানো হতে পারে।
ম্যাচের মাঠের প্রস্তুতির মাঝেই নেইমারকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। স্কটল্যান্ড ম্যাচের শেষভাগে নেইমারকে যখন মাঠে নামানোর প্রস্তুতি চলছিল, তখন ডাগআউটে বসা সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে ডেভিডের মাথা নাড়ানোর ভঙ্গি দেখে অনেকেই ধারণা করেন, নেইমারকে খেলানোর বিষয়ে তিনি কোচের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন ডেভিড।
পরিস্থিতি বেশি দূর গড়ানোর আগেই নিজেই মুখ খোলেন ডেভিড আনচেলত্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ওই সময় তিনি অন্য সহকারী কোচ পল ক্লেমেন্টের সঙ্গে দলের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ট্যাকটিক্যাল বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। নেইমারকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর সেই অঙ্গভঙ্গির দূরতম কোনো সম্পর্কও ছিল না।
ব্রাজিল দলের বর্তমান আক্রমণভাগে জায়গা পাওয়ার লড়াই এখন আকাশচুম্বী। দলের বাম প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। এর বাইরে তরুণ তুর্কি রায়ান, মাতেউস কুনহা ও ইগর থিয়াগো দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় প্রত্যেকেই একাদশের জোরালো দাবিদার। এর ওপর চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে রাফিনহাও দলে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। সব মিলিয়ে, আক্রমণভাগের এই তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ফিটনেসের ঘাটতির কারণে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার সময় নেইমারের মাঠে থাকার সম্ভাবনা একপ্রকার নেই বললেই চলে।
মন্তব্য