ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে অস্ট্রেলীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। নতুন বল হাতে পেতেই অজি পেসাররা সফরকারীদের মিডলঅর্ডারে আচমকা ধস নামায়। তবে শেষ সেশনের ওই সাময়িক ধাক্কা বাদ দিলে ম্যাচের রাশ পুরোটা সময়ই ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দলের হাতে। দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে ৪ উইকেট হাতে রেখে ১৫৩ রানের শক্ত লিড দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের বোলিং আগুনে অজিদের মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম দিনে বল হাতে হাসান নায়ক হলেও দ্বিতীয় দিনটি ছিল কেবলই তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। ডারউইনের উইকেটে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি গড়েছেন ইতিহাস। ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০১ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে শাহরিয়ার নাফিসের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অজিদের বিরুদ্ধে টেস্টে শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়েন তানজিদ। শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।
তানজিদের ওপর ভর করেই মূলত বড় সংগ্রহের ভিত পায় বাংলাদেশ। প্রথম উইকেটে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৩৬ রান যোগ করার পর দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হককে নিয়ে ১০২ রানের মজবুত জুটি গড়েন তিনি। মুমিনুল ৪৯ রানে কাটা পড়লেও তানজিদ তাঁর ব্যাটিং তাণ্ডব অব্যাহত রাখেন। পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে আরও ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যান। তানজিদের বিদায়ের পর দায়িত্ব নিয়ে খেলতে থাকা শান্তও এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৮৪ রানে জশ হ্যাজলউডের বলে স্লিপে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ হয়ে তাঁকে থামতে হয়।
শান্তর বিদায়ের পরপরই হুট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা লিটন দাস শূন্য রানে এবং সেট ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ৩৬ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে সেই চাপকে জয় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও প্রথম ইনিংসের বোলিং হিরো হাসান মাহমুদ। দিন শেষে সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রান যোগ করে মাঠ ছাড়েন দুজন। মিরাজ ৩২ এবং হাসান ১৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। এর আগে ৯৬ রানে ১ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ প্রথম সেশনে ৮৫ রান ও দ্বিতীয় সেশনে ১০৫ রান তুলে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ক ৬৮ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট নেন, আর প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন শিকার করেন একটি করে উইকেট। দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৩ রানের ব্যবধান বাংলাদেশকে ইতিহাস গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে।









