জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪২ পিএম

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সাইফুল হক (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে উপজেলার একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত যুবককে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হেফাজতে নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযুক্ত সাইফুল হককে ধরে ফেলেন এবং তাকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখেন। পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আহত অবস্থায় সাইফুলকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
অন্যদিকে, ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আটক সাইফুল হক সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে সাদকপুর (বুড়িস্থল) গ্রামের সমরু মিয়ার ছেলে। তবে তার স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগর এলাকায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি আইন অনুযায়ী তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটির ওপর নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পরিবর্তে তাকে মারধরের ঘটনায়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার পর সাইফুল হককে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এ ধরনের ঘটনায় শিশুর পরিবারকে সামাজিক ও আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তদন্ত শেষে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
মন্তব্য