খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৪:২ পিএম

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বসতবাড়ির একটি ‘পছন্দের কক্ষে’ থাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবার সঙ্গে তর্কের এক পর্যায়ে কুড়ালের আঘাতে ৭০ বছর বয়সী সুলতান আলীকে হত্যা করেছেন তাঁরই ছেলে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও বিস্ময়।
নিহত সুলতান আলীর বাড়ি উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের মন্ত্রীগাঁও গ্রামে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান। পরিবারের ছয় ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে তিনজন আলাদা সংসার করেন। সবচেয়ে ছোট ছেলে ফয়াজ মিয়া দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকতেন এবং দুই মাসের ছুটিতে ২৪ জুন দেশে ফেরেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশে ফেরার পর ফয়াজ মিয়া বাবার বাড়ির একটি নির্দিষ্ট কক্ষে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই বিষয়টি নিয়ে ২৬ জুন রাতে বাবা ও ছেলের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে ফয়াজ মিয়া ঘরে থাকা কাঠ কাটার কাজে ব্যবহৃত কুড়াল দিয়ে সুলতান আলীর মাথার পেছনে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় সুলতান আলীকে দ্রুত কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছিল। তবে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতির সময় কাউকে কিছু না জানিয়ে ফয়াজ মিয়া সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে। পরে সুলতান আলীর মরদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সাহেদ মিয়া বাদী হয়ে ফয়াজ মিয়াকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করার জন্য একাধিক স্থানে চেষ্টা চলছে। তবে এখনো তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর মধ্যে এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনল, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পুলিশ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য