রংপুর মহানগরীর পায়রা চত্বর এলাকায় অবস্থিত নর্থ ভিউ আবাসিক হোটেলের ৯ তলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) বিকেল সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর পরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে।
Table of Contents
নিহত কিশোরীর পরিচয় ও শিক্ষাজীবন
হোটেলের ছাদ থেকে নিচে পড়ে নিহত হওয়া ওই কিশোরীর নাম নুজসাত। সে রংপুর নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের মেয়ে। নুজসাত একজন শিক্ষার্থী ছিল। সে চলতি বছরে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও পরিচিতদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত
ঘটনার পর পরই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল নর্থ ভিউ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক কিছু বিবরণ জানতে পেরেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে, ওই কিশোরী বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে একা হোটেলের ছাদে প্রবেশ করে। ছাদে যাওয়ার পর সে কিছুক্ষণ নিজের মোবাইল ফোন দেখছিল। এর কিছুক্ষণ পর সে ছাদের রেলিংয়ের ওপর ওঠে। এর ঠিক পর পরই সে নিচে পড়ে যায়।
আইনগত পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য
ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী আরও জানান যে, ঘটনাটি আসলে আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ধরনের প্ররোচনা বা রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উদ্ঘাটন করতে পুলিশের তদন্ত চলছে। পুলিশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পেছনের ঘটনা নিশ্চিত হতে কাজ করছে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে এই ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হোটেলের নিরাপত্তা ও ছাদ খোলা রাখা নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে, রংপুর নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এমন একটি বড় আবাসিক হোটেলের ছাদ সাধারণ মানুষের জন্য এভাবে খোলা থাকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পাহারাদার ছাড়া যে কেউ কীভাবে সহজে প্রবেশ করতে পারে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, এত বড় একটি হোটেল, অথচ এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন যে বাইরের একজন সাধারণ কিশোরী বা যে কেউ চাইলেই অনায়াসে ছাদে চলে যেতে পারছে; তা কী করে হতে পারে? স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি বহুতল ভবনগুলোর ছাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।









