পশ্চিম ইকুয়েডরের মানাবি প্রদেশে সেনা সদস্য সেজে আসা বন্দুকধারীদের হামলায় সাতজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রথমে ভুক্তভোগীদের জড়ো করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। এরপর তারা রাইফেল ও পিস্তল ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও খামার শ্রমিকরা গুরুতরভাবে আতঙ্কিত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডটি মানাবির একটি খামারে ঘটে। হামলাকারীরা সেনা পোশাক পরিধান করায় স্থানীয়রা প্রথমে তাদের সরকারি কর্মী হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করেছিল। পুলিশ বলেছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন খামারের শ্রমিক ও স্থানীয় কৃষক।
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদক কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলো নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একে অপরের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। এমন অবস্থার কারণে জানুয়ারি থেকে মানাবিসহ আরও আটটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল নবোয়া এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন। তবে সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও সহিংস হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমছে না; বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির পুলিশের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইকুয়েডরে সহিংস মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে ৯,২১৬ হয়েছে।
নিম্নের টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | স্থান | নিহত সংখ্যা | হামলার ধরন | লক্ষ্য |
|---|---|---|---|---|
| সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | মানাবি প্রদেশ, পশ্চিম ইকুয়েডর | ৭ | রাইফেল ও পিস্তল দ্বারা এলোপাতাড়ি গুলি | খামার শ্রমিক ও স্থানীয় কৃষক |
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ অভিযান শুরু করেছে, হত্যাকারীদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের জন্য। তবে সাধারণ মানুষ বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা নিয়মিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মাদক চক্র এবং স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীর সংঘাত অব্যাহত থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের হামলার সংখ্যা বেড়ে চলবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট নবোয়া দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার জন্য নতুন মাদকবিরোধী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেনাবাহিনীকে গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও রাত্রিকালীন অভিযান চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা সত্ত্বেও হত্যাকাণ্ড কমেনি, যা দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিক থেকে উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।
