খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩৫ এএম

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ চলতে থাকলে নোবেল শান্তি পুরস্কারের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, সংঘাত বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারের দিকে নজর রাখছেন। তবে এটি তখনই সম্ভব হবে, যদি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা যায়। এ জন্য ইসরায়েলি সরকারকে চাপের মুখে আনতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, এর জন্য শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
ম্যাক্রোঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বর্তমান নীতি কোনো পরিকল্পনা নয়; বরং নিজেদের জনগণকে “অবিরাম যুদ্ধের” মধ্যে ঠেলে দেওয়া। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে। কারণ, “আমরা সেই অস্ত্র সরবরাহ করি না, যেগুলো দিয়ে গাজার যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রই তা করছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফ্রান্স ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল যদি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে তার জবাব দিতে ফ্রান্স প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান ম্যাক্রোঁ।
মঙ্গলবার ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএম টিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“যদি এমনটা হয়, আমরা জবাব দেবো। আমরা প্রস্তুত। সবকিছুর জন্য প্রস্তুত আছি। তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের শান্তির পথ ও বন্ধুত্বের পথ বেছে নেওয়া উচিত।”
তাঁর ভাষায়, “যদি গাজায় যুদ্ধ চলতেই থাকে, সেনারা যদি সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে থাকে, তবে আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।”
ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স যে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ইসরায়েল ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েলি সমাজকে বোঝাতে সাহায্য করছে যে এই উদ্যোগ শান্তির জন্য, এবং তা বাস্তবায়নে ইসরায়েলিদের সম্পৃক্ত করাই মূল উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আগে সোমবার নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের এক সম্মেলনে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, অ্যান্ডোরা, ফ্রান্স, মাল্টা, মোনাকো ও সান মারিনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগের দিন ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল একই সিদ্ধান্ত নেয়।
ফলে ১৯৮৮ সালে প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৫৯টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
মন্তব্য