খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৬ পিএম

অস্কারজয়ী ভারতীয় সুরকার ও সংগীতশিল্পী এ আর রহমানের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—সবখানেই চলছে তর্ক-বিতর্ক, প্রশংসা ও সমালোচনা। তবে এই সমালোচনার মুখেও শান্ত ও সংযত অবস্থান বজায় রেখেছেন বিশ্বখ্যাত এই সংগীতজ্ঞ। তিনি নিজেই তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, কারো অনুভূতিতে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।
এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এ আর রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছেন মালয়ালম সংগীত রচয়িতা কৈলাস মেনন। ইনস্টাগ্রামে ‘অসম্মতি থাকুক, অসম্মান নয়’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রহমানকে ঘিরে যেভাবে কটাক্ষ ও বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গঠনমূলক সমালোচনা নয়; বরং তা ঘৃণামূলক বক্তব্যের পর্যায়ে পড়ে। মেননের মতে, একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করা তার মৌলিক অধিকার। কেউ সেই অনুভূতির সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু সেই অধিকার অস্বীকার করা বা তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
কৈলাস মেনন আরও বলেন, রহমানের বক্তব্যের পর যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা মতবিরোধের সীমা ছাড়িয়ে ‘অপব্যবহার ও চরিত্রহননের’ রূপ নিয়েছে। একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিল্পীকে অসম্মান করা, তার বিশ্বাস ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানকে তুচ্ছ করে দেখা কোনোভাবেই শিল্পসম্মত আচরণ নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন সমালোচকদের আছে, তেমনি রহমানেরও রয়েছে।
এ আর রহমান কেবল একজন জনপ্রিয় সুরকার নন; তিনি কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সিনেমা, তামিল সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক সংগীতধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার কাজ শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সাংস্কৃতিক সংযোগ, সহাবস্থান ও সম্মানের বার্তা বহন করে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ আর রহমান নিজেই তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, সঙ্গীত তার কাছে সবসময়ই সংস্কৃতিকে যুক্ত করার, উদযাপন করার এবং সম্মান জানানোর মাধ্যম। ভারত তার অনুপ্রেরণা, শিক্ষক এবং ঘর। কোনো বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন।
নিচের সারণিতে এ আর রহমানের আন্তর্জাতিক অবদান ও স্বীকৃতির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| ক্ষেত্র | উল্লেখযোগ্য অর্জন |
|---|---|
| চলচ্চিত্র সংগীত | ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে শতাধিক সুরারোপ |
| আন্তর্জাতিক পুরস্কার | ২টি অস্কার, ২টি গ্র্যামি |
| জাতীয় স্বীকৃতি | পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ |
| সাংস্কৃতিক অবদান | ভারতীয় সংগীতকে বৈশ্বিক পরিসরে পরিচিত করা |
সব মিলিয়ে, এ আর রহমানকে ঘিরে চলমান বিতর্ক আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—সমালোচনা ও অসম্মানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একজন শিল্পীর কাজ বা বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু তার সততা ও অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।
মন্তব্য