খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম

ঢাকার আশুলিয়ায় একটি মাদরাসা প্রাঙ্গণের নির্মাণাধীন ওয়াশরুম থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পাকিস্তানি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। গত বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে আশুলিয়া থানার শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত একটি মাদরাসায় অভিযান পরিচালনা করে এই আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪-এর সিপিসি-২, নবীনগর ক্যাম্পের একটি চৌকস টহল দল ওই মাদরাসায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সেখানে মাদক ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য মজুত করেছে বলে র্যাব জানতে পারে। তবে মাদরাসায় পৌঁছে আভিযানিক দলটি মাদকদ্রব্যের পরিবর্তে আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধান পায়।
অভিযানকালে মাদরাসা প্রাঙ্গণে অবস্থিত অভিভাবকদের বসার স্থান বা ‘ওয়েটিং রুম’-এর পাশে একটি নির্মাণাধীন ওয়াশরুম র্যাব সদস্যদের নজরে আসে। সন্দেহভাজন হিসেবে সেই নির্মাণাধীন ওয়াশরুমে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে ওয়াশরুমের টয়লেটের মেঝেতে স্তূপ করে রাখা কয়েকটি ইটের নিচে একটি ছেঁড়া শপিং ব্যাগের সন্ধান মেলে। ব্যাগটি পরীক্ষা করে তার ভেতরে সবুজ রঙের পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি রিভলবার এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি অত্যন্ত সচল ও অক্ষত অবস্থায় ছিল। অস্ত্র এবং গুলির সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | আলামতের নাম | বিবরণ ও বৈশিষ্ট্য |
| ১ | রিভলবার | আট চেম্বারবিশিষ্ট সিলিন্ডার, যার ব্যারেল, ট্রিগার ও হ্যামারসহ সব অংশ অক্ষত। এর গায়ে ইংরেজিতে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ (Made in Pakistan) খোদাই করা রয়েছে। |
| ২ | গুলি | দুই রাউন্ড ২২ বোরের (22 Bore) লাইভ গুলি। উদ্ধারকৃত গুলির পেছনে ইংরেজি ‘টি’ (T) অক্ষরটি খোদাই করা রয়েছে। |
এই ঘটনা প্রসঙ্গে র্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি commander মেজর আরমান হোসেন হৃদয় জানান যে, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিগুলো সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই অবৈধ অস্ত্রের মূল উৎস কোথায়, এটি কীভাবে বাংলাদেশে এসেছে এবং মাদরাসা প্রাঙ্গণে কারা কী উদ্দেশ্যে এটি লুকিয়ে রেখেছিল, তা উদ্ঘাটনে র্যাবের তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
র্যাব কর্তৃক উদ্ধারকৃত এই আলামতগুলো ইতিমধ্যেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য স্থানীয় আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মন্তব্য