আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে মন্তব্য

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেছেন, “মন্ত্রীর পেছনে আমরা টাকা নিয়ে ঘুরি নাই। যদি মন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বলে থাকেন, তাকেই তা প্রমাণ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আপিল করা হবে।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা এবং হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবেদনে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের ভেন্টিলেশন সিস্টেম নতুনভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালের ভেতরে থাকা একটি বেকারি ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বেশ কয়েকজন গুরুতর (ক্রিটিকাল) রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, জামায়াতের নেতারা আদ্-দ্বীনের পক্ষে কথা বলছেন।

এদিকে, ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একই দিন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

পরবর্তীতে ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপ

তারিখঘটনা
২৭ মেআদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যু
২৭ মেস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন
৪ জুনতদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ; চরম অবহেলার তথ্য প্রকাশ
১৩ জুনলাইসেন্স বাতিল ও অর্থ নিয়ে অভিযোগ বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য
১৫ জুনআদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলন ও আপিলের ঘোষণা

ডা. শেখ মহিউদ্দিনের মতে, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আপিল করা হবে। তিনি হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি ও অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে, যার ভিত্তিতেই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।