খুররাম খান চৌধুরী (১৯৪৬ – ১৭ জুলাই ২০২১) একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং ময়মনসিংহ-৫, ময়মনসিংহ-৮ ও ময়মনসিংহ-৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
Table of Contents
খুররম খান চৌধুরী | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

রাজনৈতিক জীবন
খুররাম খান চৌধুরী নান্দাইলের একটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং মোট চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নিবাির্চত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ময়মনসিংহ উত্তর ইউনিটের আহ্বায়ক। দলবদলের মাধ্যমে তিনি বিএনপি থেকে জাতীয় পাটি এবং শেষে আবার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে ময়মনসিংহ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নিবাির্চত হন। এর পর ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নিরবাচিনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নিবাির্চত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নিবাির্চত হয়ে পুনরায় বিএনপিতে যোগ দেন। সর্বশেষ ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নিবাির্চত হন।
১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০১৮ সালের এদাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসাবে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে পরাজিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি শুরু করেন। জিয়া যখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির পদের জন্য নির্বাচন করবেন তখন তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
ইতিহাস
প্রতিষ্ঠা
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলে জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন। জাগদলকে বিএনপির সাথে একীভূত করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং এই দলের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এর প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়ার এই দলে বাম, ডান, মধ্যপন্থি সকল প্রকার লোক ছিলেন। বিএনপির সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিয়োগ পদ্ধতি। প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য শুধুমাত্র রাজনীতিতে যে নতুন ছিলেন তাই নয়, তারা ছিলেন তরুণ।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
এখানে উল্লেখ্য, বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ