জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ১:৩৮ পিএম

রাজধানীর আদাবরে এক তরুণী মেকআপ আর্টিস্টকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চারদিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে উঠতি এক ফটোগ্রাফার এবং তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় আদালত অভিযোগের বিষয়সমূহ গুরুত্বের সাথে নিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান মামলাটি গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগীর বড় বোন রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে আদালতে এই নালিশি আরজি পেশ করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
মামলায় অভিযুক্ত মূল আসামি হলেন পেশায় ফটোগ্রাফার নামিন আশরাফ মনি (৩৭)। এই ঘটনার সঙ্গে সহায়তার অভিযোগে তার বাবা আশরাফউদ্দিন ও মা শাহনাজ বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাদিয়া ইয়াসফিয়া (২৪) পেশায় একজন মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি শুটিংয়ে অংশ নিতে গিয়ে আসামির সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে পেশাগত কারণে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায় এবং তা একপর্যায়ে গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে রূপ নেয়। তাদের এই সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবারই অবগত ছিল।
পারিবারিক সম্মতির প্রত্যাশায় গত ৬ জুন সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা (বড় বোন ও বড় ভাইসহ অন্যান্য আত্মীয়) বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে আসামির গেন্ডারিয়ার ঢালকানগর গলির বাসায় যান। কিন্তু নামিম আশরাফের মা-বাবা অত্যন্ত কড়া ভাষায় সেই বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। শুধু তাই নয়, জোরপূর্বক কোনো সম্পর্কের চেষ্টা করা হলে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকিও প্রদর্শন করা হয়।
পারিবারিক বাধার মুখেও আসামি নামিম আশরাফ ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। গত ১০ জুন রাতে নামিম সাদিয়াকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আদাবরের শেখেরটেক-১২ নম্বর রোডের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার নিজস্ব ফটো স্টুডিও ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সাদিয়া যেন পরিবারের সন্দেহ থেকে বাঁচতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে আসামি তাকে বাধ্য করেন পরিবারকে জানাতে যে তিনি এক বান্ধবীর বাসায় আছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১০ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটেই ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই চারদিন তাকে ক্রমাগত ধর্ষণ ও নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে ১৪ জুন ভুক্তভোগীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর আসামি নামিম আশরাফ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য কৌশলে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রচারণা ছড়াতে থাকেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক সুরতাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে স্পষ্ট একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং ধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে জানান মামলার বাদী।
আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত গোয়েন্দা পুলিশকে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন, আসামিদের ভূমিকা চিহ্নিতকরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য