খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এক সফল ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে কোস্টগার্ড। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অপরাধে দুইটি বিশাল আর্টিসানাল ট্রলিং বোট এবং বিপুল পরিমাণ জালসহ ৩৭ জন জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে কোস্টগার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন। উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে এটি কোস্টগার্ডের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত একটা নাগাদ গোপন সূত্রে একটি খবর আসে যে একদল জেলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ক্ষতিকর ট্রলিং জাল নিয়ে সাগরে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালীর একটি চৌকস দল চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানাধীন শেখেরখীল মাছ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত অবস্থান নেয়। সাগরে অন্ধকার নেমে আসায় জেলেরা ভাবেনি এই সময়ে কোনো অভিযান হতে পারে। কিন্তু কোস্টগার্ডের দলটির নিখুঁত ও বিশেষ কৌশলের কারণে তারা পালানোর কোনো সুযোগ পায়নি।
শেখেরখীল মাছ ঘাটের কাছে সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা দুটি বড় বড় অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটকে প্রথমে অবরুদ্ধ করে কোস্টগার্ড। এরপর বোট দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ ১৪টি ট্রলিং জাল উদ্ধার করা হয়। একই সাথে বোটের ভেতরে থাকা ৩৭ জন জেলেকে আটক করতে সক্ষম হন কোস্টগার্ডের সদস্যরা। গভীর রাতে সাগরের বুকে হঠাৎ এই অভিযানে ওই এলাকায় অবৈধ জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত বিশাল আকৃতির ট্রলিং বোট দুটি এবং ১৪টি ট্রলিং জাল কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটককৃত ৩৭ জন জেলের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইন ও সামুদ্রিক সীমানায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের অপরাধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আটককৃত জেলেদের এবং জব্দকৃত মালামালকে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম এই মুহূর্তে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও দেশের অমূল্য মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও জেলে আইন অমান্য করে সাগরে ট্রলিং জালের মাধ্যমে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে ধ্বংস করছে, যা দেশের মৎস্য খাতের জন্য বড় হুমকি। সাগরে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং এই ধরনের অবৈধ তৎপরতা সম্পূর্ণ রুখে দিতে কোস্টগার্ডের এ ধরনের ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য