ভারতের মধ্যপ্রদেশের বারগি বাঁধসংলগ্ন নর্মদা নদীতে প্রবল ঝড়ের মধ্যে নৌকাডুবির ঘটনায় এক মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার অভিযানে এক নারী ও তার চার বছর বয়সী সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত মা তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন, যা ঘটনাটির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আগত চার সদস্যের একটি পর্যটক পরিবার ওই নৌকায় ভ্রমণে ছিল। আকস্মিকভাবে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে নদীতে তীব্র ঝড় শুরু হয়। এর ফলে নৌকাটি দ্রুত ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় পরিবারের বাবা ও মেয়ে জীবিত উদ্ধার হলেও মা ও ছেলের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনা সম্পর্কে বেঁচে ফেরা পর্যটক সৈয়দ রিয়াজ হোসেন জানান, আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রবল ঝড়ে নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও নাতি মুহূর্তের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি নিজে দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে অবস্থান করেন এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া পাঁচ শিশুসহ মোট ৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে সৈয়দ রিয়াজ হোসেনের পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।
নৌকার চালকের কাছে জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেট থাকায় তিনি এই দুর্ঘটনায় বেঁচে যান। অন্যদিকে, স্থানীয় পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের একাধিক ইউনিট একযোগে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। তবে নদীর প্রবল স্রোত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিখোঁজদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিচে দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | নর্মদা নদী, বারগি বাঁধ এলাকা |
| দুর্ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার |
| দুর্ঘটনার ধরন | ঝড়ের মধ্যে নৌকাডুবি |
| নিহত | ৯ জন |
| নিখোঁজ | ৯ জন (৫ জন শিশু) |
| জীবিত উদ্ধার | ২৪ জন |
| হাসপাতালে চিকিৎসাধীন | ১৭ জন |
| উদ্ধার কার্যক্রম | চলমান |
উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। নদীর স্রোত ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি এই অভিযানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
