খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ এএম

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এই থমথমে ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। মূলত কেন্দ্রের ভেতর পরীক্ষার্থীদের অনৈতিকভাবে নকল করতে বাধা দেওয়া এবং শিক্ষকদের কঠোর নজরদারিকে কেন্দ্র করে এই তুলকালাম কাণ্ড ঘটে।
পুলিশ, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করে যে তাদের প্রশ্নপত্র অত্যন্ত কঠিন হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা হলে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করছেন। কেন্দ্রের ভেতর অবৈধ উপায়ে নকল করার সুযোগ না পেয়ে একদল পরীক্ষার্থী চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই দুপুরের দিকে ওই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের বাইরে এসে জড়ো হতে থাকে। তারা প্রথমে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে এবং একপর্যায়ে হলের ভেতর অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালায় দায়িত্বরত শিক্ষক ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রের মূল ভবনে চড়াও হয়। তারা কেন্দ্রের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেঞ্চ, জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এমনকি কলেজ অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্র সুপারের কক্ষের ভেতরেও ভাঙচুর চালানো হয়।
খবর পেয়ে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও দায়িত্বরত শিক্ষকদের সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশকে দেখে শিক্ষার্থীরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে পুলিশ ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়।
can ঘটনার তীব্রতা বাড়লে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপরও বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ না হওয়ায় পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের তাড়িয়ে দেয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন কমবেশি আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ায় এবং পরীক্ষার হলে কঠোর নজরদারির কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি। এই ক্ষোভ থেকেই পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কেন্দ্র সুপার ও কলেজের অধ্যক্ষের রুমে ভাঙচুর চালায়। সরকারি কাজে বাধা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট করার এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান শনিবার রাতে জানান, এই অনাকাঙ্্বিত ঘটনার পর বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বা কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য