খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ১:১৪ এএম

মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আতাউল্লাহ শাহকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দলটির গাজীপুর মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদে ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আতাউল্লাহকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী গুরুতর কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ৫ জুলাই ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের একটি বালুর মাঠ থেকে আতাউল্লাহসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক তাঁদের আদালতে হাজির করে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিয়মিত টহল ও তদারকির সময় গোপন সূত্রে খবর আসে যে, মিনি কক্সবাজার এলাকার ওই বালুর মাঠে কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য জড়ো হয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ আতাউল্লাহসহ ছয়জনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পুলিশের দাবি, তাঁরা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে মূলত উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অনুপ্রবেশের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, দলের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের আগে দেশজুড়ে দ্রুত কমিটি দেওয়ার একটি সাংগঠনিক চাপ ছিল। এই তাড়াহুড়োর কারণে মাঠপর্যায়ে পদপ্রার্থীদের অতীত ইতিহাস ও কার্যক্রম পুরোপুরি নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই কিছু বিতর্কিত লোক দলে ঢুকে পড়েছে।
মন্তব্য