খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সমাপনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ড। এই ম্যাচটি কেবল শেষ আটে ওঠার লড়াই নয়, বরং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার শৈল্পিক ফুটবল ছন্দের সাথে ইউরোপীয় গতি ও পাওয়ার ফুটবলের এক জমজমাট দ্বৈরথ। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই দলের সমর্থকদের মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চলতি আসরে দুই দলের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে ম্যাচটি অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর হবে বলে আশা করা যায়। এখন পর্যন্ত কোনো দলই টুর্নামেন্টে হারের মুখ দেখেনি। নিজ নিজ গ্রুপে অপরাজিত থেকেই নকআউটের টিকিট কেটেছে তারা। ল্যাটিন আমেরিকার প্রতিনিধি কলম্বিয়া মাঠে নামছে তাদের চিরচেনা চতুর পাসিং ফুটবল নিয়ে। একই সাথে তাদের রক্ষণভাগও এবার ইস্পাতকঠিন পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি গোল হজম করা কলম্বিয়ার ডিফেন্স ভাঙা যেকোনো আক্রমণভাগের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড এবার টুর্নামেন্টে নিজেদের চেনা রক্ষণাত্মক খোলস থেকে বেরিয়ে এসে বেশ বৈচিত্র্যময় ও ধারালো আক্রমণভাগের প্রদর্শন করেছে। সুইস ফরোয়ার্ড লাইনের এই গতি ও নিখুঁত ফিনিশিং যেকোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাটল ধরাতে সক্ষম। ফলে কলম্বিয়ার শক্ত ডিফেন্সের সামনে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ডরা কেমন পরীক্ষা নেয়, তা দেখার বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নান্দনিক দ্বৈরথের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মূলত মাঝমাঠের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে। মাঠের মাঝখানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দুই দলকেই সর্বোচ্চ কৌশল খাটানো লাগবে। সুইস মিডফিল্ডের প্রাণভ্রমরা গ্রানিত জাকার ঠান্ডা মাথার পাসিং ও তীক্ষ্ণ দূরদর্শিতাকে আজ বড় পরীক্ষা দিতে হবে। কারণ, তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে কলম্বিয়ার মাঝমাঠের গতি ও শারীরিক শক্তি। জাকার মূল চ্যালেঞ্জ হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রেখে ফরোয়ার্ডদের দিকে বলের জোগান সচল রাখা।
একই সাথে ডিফেন্সেও সুইসদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র লুইস দিয়াজকে বোতলবন্দী করা সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগের প্রধানতম লক্ষ্য হবে। লুইস দিয়াজ তার গতি ও ড্রিবলিং দিয়ে নিমেষেই যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করে দিতে পারেন। তাকে রুখতে সুইস ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারায় রাখতে হবে। সব মিলিয়ে গতি ও শৈল্পিক ফুটবলের এই জমজমাট লড়াইয়ে শেষ হাসি কারা হাসে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব।
মন্তব্য