খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণ—উভয় ধরনের মৃত্যু মিলিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪১ জনে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৪৮ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণের কারণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। এই দুই ধরনের মৃত্যুর হিসাব একত্র করলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪১।
সংক্রমণের চিত্রও এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও ৯৪৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫।
একই সময়ে পরীক্ষাগারে নতুন করে ১৫৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দেশে মোট ১২ হাজার ৭৯১ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে বোঝা যায়, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি অংশের সংক্রমণ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হলেও অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা উপসর্গের ভিত্তিতেই দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্যও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৬ হাজার ৬২ জন। ফলে এখনো কয়েক হাজার রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অনেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন, বিশেষ করে যাদের বয়স কম অথবা অন্য স্বাস্থ্যজটিলতা রয়েছে।
| সূচক | সর্বশেষ তথ্য |
|---|---|
| প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ | সোমবার |
| গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু | ৩ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ০ জন |
| মোট মৃত্যু (উপসর্গ ও নিশ্চিত) | ৭৪১ জন |
| উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু | ৬৪৮ জন |
| নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যু | ৯৩ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গযুক্ত রোগী | ৯৪৭ জন |
| উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা | ১,০৬,৫৬৫ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন নিশ্চিত রোগী | ১৫৯ জন |
| পরীক্ষায় নিশ্চিত মোট রোগী | ১২,৭৯১ জন |
| হাসপাতালে মোট ভর্তি | ৮৯,৭৩৪ জন |
| হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র | ৮৬,০৬২ জন |
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, অপুষ্টিজনিত জটিলতা, কানের সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল শিশুদের ক্ষেত্রে এসব জটিলতা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর জ্বরের সঙ্গে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা, কার্যকর নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে হামের জটিলতা ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
মন্তব্য