জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জেতার অতীত ইতিহাস কি ভাবাচ্ছে আর্জেন্টিনাকে?

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের চেনা ছন্দ ধরে রেখে আরও একটি দাপুটে মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়ার পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে হারিয়ে টানা তিন জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা নাম লিখিয়েছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। আগামী ৪ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মেসি-মার্তিনেজদের প্রতিপক্ষ এবারের আসরের অন্যতম বড় চমক আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। মাঠের পারফরম্যান্সে আলবিসেলেস্তেরা উড়ন্ত ফর্মে থাকলেও নকআউটের ঠিক আগমুহূর্তে দলটির সমর্থকদের মনে কিছুটা ভয় ও ভাবনার রেখা ফুটিয়ে তুলছে ফুটবলের এক অদ্ভুত অতীত ইতিহাস।

ফুটবল ইতিহাসের পাতা উল্টালো দেখা যায়, গ্রুপ পর্বে নিজেদের সব ম্যাচ জিতে আর্জেন্টিনা কখনোই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। অতীতে এমন চার-চারটি আসরে গ্রুপ পর্বের সব প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়ার অনবদ্য কীর্তি গড়েছিল তারা। তবে প্রতিবারই নকআউট পর্বের কোনো এক ধাপে গিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে কিংবা ফাইনালে গিয়ে ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। ইতিহাস ভাঙার এই নতুন চ্যালেঞ্জই এখন আলবিসেলেস্তে শিবিরের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আর্জেন্টিনার এই গোলমেলে ইতিহাসের শুরু সেই ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে। সেবার ফ্রান্স, মেক্সিকো ও চিলিকে টানা হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত খেলে তারা ফাইনালেও উঠেছিল। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্বাগতিক উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এরপর দীর্ঘ সময় পর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আবারও গ্রুপ পর্বে জয়ের শতভাগ রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা। সেবার জাপান, জ্যামাইকা ও ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে বিদায় করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে ২০১০ সালেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রিসকে হারিয়ে দুর্দান্ত গতিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার এক চরম লজ্জার স্মৃতি নিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়। এর ঠিক পরের আসরে অর্থাৎ ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইরান এবং নাইজেরিয়াকে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে পা রাখে আর্জেন্টিনা। এবার তারা ফাইনালে উঠলেও অতিরিক্ত সময়ের গোলে আবারও জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা তাদের সেই পুরনো গ্রুপ পর্বের আধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে এবার ভক্তদের মনে প্রশ্ন, অতীত কি আবারও ফিরে আসবে নাকি এবার নতুন কোনো ইতিহাস লেখা হবে? আগামী ৪ জুলাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার আসল পরীক্ষা। আসরের অন্যতম চমক কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয়, মাঠের ফুটবলে এই পুরনো ও অদ্ভুত অপয়া ইতিহাস বদলে দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের তকমা ধরে রাখতে পারে কি না লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

Tags :

Md. Sakib

Recent News