খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

অঘটনের এই ২০২৬ বিশ্বকাপে আজ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে। ফুটবলের এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চমক কানাডা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই দুই দলকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা না হলেও গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে তারা এখন রাউন্ড অব ৩২ বা শেষ বত্রিশের মঞ্চে। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে দুই দলের শিবিরেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করার সুবর্ণ সুযোগ এখন দুই দলের সামনেই।
ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি চেক প্রজাতন্ত্র এবং এশিয়ার জায়ান্ট দক্ষিণ কোরিয়াকে পেছনে ফেলে রূপকথার মতো নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে যৌথ আয়োজক দেশ হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপ আয়োজন করেই বাজিমাত করেছে কানাডা। হেসে মার্শের শিষ্যরা গ্রুপ পর্বের কঠিন বৈতরণী পার হয়ে শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপের তিনটি আয়োজক দেশের মধ্যে কানাডাই একমাত্র দল, যাদের নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলতে হচ্ছে নিজ দেশের মাটির বাইরে। অন্য আয়োজক দেশ মেক্সিকো যখন মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ইকুয়েডরের বিপক্ষে নামবে, তখন কানাডাকে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গিয়ে মুখোমুখি হতে হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার।
নিজেদের চেনা আঙিনায় খেলতে না পারলেও এটিকে মোটেও নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না কানাডার ফুটবলাররা। কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড তানি ওলুওয়াসেই আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “আমরা প্রতিপক্ষের সমর্থকে ঠাসা গ্যালারিতে খেলতে বেশ পছন্দ করি। কারণ এই ধরনের বৈরী পরিবেশ আমাদের নিজেদের প্রমাণ করার জন্য এবং সেরাটা ঢেলে দেওয়ার জন্য এক বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগায়।” তবে এই ইতিবাচক কথার মধ্যেও কানাডা শিবিরের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ ছিল অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিসের ফিটনেস। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কবলে পড়ে তিনি গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের একটিতেও মাঠে নামতে পারেননি। তবে শেষ মুহূর্তে কানাডার জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছেন কোচ হেসে মার্শ। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নকআউট ম্যাচের জন্য এই তারকা ডিফেন্ডার পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্শ বলেন, “ডেভিসের ফেরাটা শারীরিক ও ফুটবলীয় দিক থেকে আমাদের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, মানসিকভাবে এর প্রভাব আরও অনেক বেশি। দলের অধিনায়ক এবং সেরা খেলোয়াড়কে ড্রেসিংরুমে ফিরে পাওয়া পুরো দলের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় অনেক বাড়িয়ে দেয়।”
গ্রুপ পর্বের পরিসংখ্যানের দিক থেকে দুই দলই সমান্তরালে অবস্থান করছে। কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা—দুই দলই গ্রুপ পর্বে ১টি জয়, ১টি ড্র এবং ১টি হারের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে শেষ বত্রিশের টিকিট কাটে। ইনজুরি আর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দলকেই কিছু খেলোয়াড় অদলবদল করতে হচ্ছে। কানাডার ইসমায়েল কুনে ভাঙা পায়ের চোটের কারণে স্কোয়াডের বাইরে রয়েছেন। মাঝমাঠের চালিকাশক্তি স্টিফেন ইউস্তাকিওর খেলা নিয়েও রয়েছে বড় সংশয়। তবে রক্ষণভাগে মোইজ বোম্বিতো দলে ফিরছেন, যা কানাডার রক্ষণকে স্বস্তি দেবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে সুখবর হলো, তেবোহো মোকোয়েনা লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে একাদশে ফিরছেন। তবে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় থেম্বা জোয়ানে আরও এক ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরেই থাকছেন।
আজকের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৪ জুলাই হিউস্টনে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও নেদারল্যান্ডস ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে। দুই দলের ফুটবলারদের সামনেই আজ ইতিহাস লেখার দিন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশ (৪-২-৩-১): উইলিয়ামস, মুদাউ, ওকন, এমবোকাজি, মোদিবা, এমবাথা, মোকোয়েনা, মাসেকো, মোফোকেং, অ্যাপোলিস ও মাকগোপা।
কানাডার সম্ভাব্য একাদশ (৪-৪-২): ক্রেপো, জনস্টন, ডি ফুজেরোলেস, কর্নেলিয়াস, লারিয়া, বুকানান, সালিবা, শোয়েনিয়ের, আহমেদ, ডেভিড ও লারিন।
মন্তব্য