জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

খাবারের বিরতিতে ব্যাংক বুথে ১৭ লাখ টাকা চুরি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের একটি এটিএম ও কালেকশন বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় এক নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া মো. আইয়ুব আলী (৫৬) কক্সবাজারের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে মোট ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ক্যাম্পাসের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম ও কালেকশন বুথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা খাবার খেতে যান। পরে বিকেলে বুথে সংরক্ষিত টাকা গণনার সময় দেখা যায়, এক হাজার টাকার নোটের ১৭টি বান্ডেল, অর্থাৎ মোট ১৭ লাখ টাকা নেই।

ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বুথের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইয়ুব আলী একটি নকল চাবি ব্যবহার করে বুথে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা টাকার বান্ডেলগুলো সরিয়ে নেন। এরপর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রংপুরে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তার কাছ থেকে চুরি হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তার কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮২৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

ব্যাংকের এটিএম ও কালেকশন বুথে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সংরক্ষিত থাকায় সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিই নয়, গ্রাহকদের আস্থার বিষয়টিও সামনে আসে। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সিসিটিভি নজরদারি, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tags :

Ratul

Recent News