ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া সেই ম্যাচটি এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অন্যতম আলোচিত অঘটন হিসেবেই বিবেচিত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান সংগ্রহ করেছিল ৭ উইকেটে ১৫৯ রান। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ঠিক সমান রান তুলে ম্যাচকে নিয়ে যায় সুপার ওভারে। সেখানেই নাটকীয় মোড়—সুপার ওভারে পাকিস্তানকে মাত্র ১৩ রানে আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১ উইকেটে ১৮ রান তুলে নেয় ইতিহাস গড়া এক জয়। ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট শক্তি পাকিস্তানের বিপক্ষে সহযোগী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই জয় শুধু বিশ্ব ক্রিকেটকেই নাড়িয়ে দেয়নি, বদলে দিয়েছে দলটির আত্মবিশ্বাস ও মানসিকতা।
সেই স্মরণীয় জয়কে পুঁজি করেই এবার আবারও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে হুঙ্কার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ কলম্বোতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। গ্রুপ ‘এ’-এর প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২৯ রানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে পাকিস্তান। ফলে নিজেদের সুনাম ও অবস্থান পুনরুদ্ধারে মরিয়া দলটি। অন্যদিকে, আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামলেও যুক্তরাষ্ট্রের শিবিরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই—বরং অতীত অভিজ্ঞতাই তাদের অনুপ্রেরণা।
যুক্তরাষ্ট্র দলের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ মোহসিন স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও জয়ের বিশ্বাস তাঁর দলের রয়েছে। পাকিস্তানের পেশোয়ারে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতের বিপক্ষে হারলেও দল বেশ কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ১৫ ওভার পর্যন্ত লড়াইয়ের মান ছিল আশাব্যঞ্জক। তাঁর ভাষায়, “আমরা সেই ইতিবাচক দিকগুলো এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের জয়ের স্মৃতি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
মোহসিন মনে করেন, এই ম্যাচে চাপটা বরং পাকিস্তানের ওপরই থাকবে, বিশেষ করে অভিজ্ঞ ব্যাটার সালমান আলী আগার মতো খেলোয়াড়দের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে হারানোর কিছু নেই—এমন মানসিকতা থেকেই তারা খেলছে। মোহসিন বলেন, “আমরা এই যাত্রাটা উপভোগ করছি। যেভাবে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে, তাতে রোমাঞ্চ আছে। আশা করছি, একটি জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।”
পাঁচ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো মোহসিনের মতে, গত দুই বছরে দলটি দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস—দুই দিক থেকেই অনেক এগিয়েছে। পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গে আগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি সতীর্থদের কৌশলগত পরামর্শও দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তান শিবির অবশ্য অতীতকে টানতে রাজি নয়। ফাস্ট বোলার সালমান মির্যা স্পষ্টভাবে বলেছেন, ডালাসের সেই সুপার ওভারের হার এখন অতীত। কলম্বোর মাঠে নতুন দিনে নতুন ম্যাচ—স্মৃতি নয়, পারফরম্যান্সই মূল বিষয়। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
পাকিস্তান–যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্মরণীয় ম্যাচ | ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ডালাস |
| ফলাফল | যুক্তরাষ্ট্র সুপার ওভারে জয়ী |
| পাকিস্তানের রান | ১৫৯/৭ |
| যুক্তরাষ্ট্রের রান | ১৫৯/৭ |
| বর্তমান ভেন্যু | কলম্বো |
| গ্রুপ | ‘এ’ |
সব মিলিয়ে, কলম্বোর ম্যাচটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়—এটি আত্মবিশ্বাস বনাম ঐতিহ্যের দ্বন্দ্ব। অতীত স্মৃতি উসকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেমন নতুন ইতিহাস গড়তে চায়, তেমনি পাকিস্তান চাইবে প্রমাণ করতে, বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের অবস্থান এখনও অটুট।
