মাগুরায় দাখিল পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে মাত্র ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর সুবিধার জন্য একটি কলেজের সব শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম দেড় মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, জেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬৩ জন দাখিল পরীক্ষার্থীর সুবিধার্থে মাগুরা আদর্শ কলেজের সম্মানসহ সব বর্ষের ক্লাস আগামী ৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে কলেজটির প্রায় ১৮শ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মাগুরা জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৭০৪ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো শ্রীপুর উপজেলায় একটি এবং মাগুরা সদর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলায় দুটি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্র ও শিক্ষার্থী সংখ্যা
| উপজেলা | কেন্দ্র সংখ্যা | পরীক্ষার্থী সংখ্যা (মোট) |
|---|---|---|
| শ্রীপুর | ১টি | তথ্য নির্দিষ্ট নয় |
| মাগুরা সদর | ২টি | তথ্য নির্দিষ্ট নয় |
| শালিখা | ২টি | তথ্য নির্দিষ্ট নয় |
| মহম্মদপুর | ২টি | তথ্য নির্দিষ্ট নয় |
| মোট | — | ১,৭০৪ জন |
তথ্যসূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার ১৭টি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের জন্য সাধারণত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসায় এবং আরও ৭টি মাদ্রাসার জন্য বেরইল দারুল হুদা ফাজিল মাদ্রাসায় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। তবে এ বছর নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার ৬৩ জন শিক্ষার্থীকে বেরইল কেন্দ্রেই পরীক্ষা দিতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার সুবিধার্থে মাগুরা আদর্শ কলেজে কেন্দ্র স্থাপন করা হয় এবং একই কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
এ সিদ্ধান্তে কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রথম বর্ষ মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রিমা বিশ্বাস জানান, নিয়মিত ক্লাসের ঘাটতির মধ্যেই দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
অভিভাবক আবদুল আলিম, ওলিয়ার রহমান ও ফসিয়ার রহমানসহ অনেকে জানান, একই সময়ে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষার কারণে বন্ধ থাকলেও একটি সচল কলেজ বন্ধ করে কেন্দ্র স্থাপন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ফসিয়ার রহমান নামের এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রেখে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পুরো কলেজ বন্ধ রাখা যৌক্তিক হয়নি।
অপর অভিভাবক ওলিয়ার রহমান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে দায়িত্বশীলদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও ক্লাস চলমান রাখার বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ দেখা যায় না।
মাগুরা আদর্শ কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, কলেজ বন্ধ রেখে কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে পরিচালনা কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত তার জানা নেই এবং বিষয়টি তাদের অবগত করা হয়নি।
পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান, কেন্দ্রে মোট ৩৭৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে ৬৩ জন তাদের নিজ মাদ্রাসার। তিনি আরও জানান, বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং সেখান থেকে আদর্শ কলেজকে নির্বাচন করা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য নিতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তুতিমূলক সভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উপস্থিতির ভিত্তিতেই কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
