দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার ইমরান মাহমুদুল কেবল দেশেই নন, সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রবাসীদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি শ্রোতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন এই তারকা। আর তাই বছরজুড়েই দেশ-বিদেশের নানা মঞ্চে গান শুনিয়ে বেড়াতে হয় তাঁকে। কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে দেশে ফেরা এই শিল্পী এবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরও বড় এক সফরের। তাঁর গন্তব্য এবার মার্কিন মুলুক। নিজের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘আইকিংস’ নিয়ে টানা দুই মাস আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গান শোনাবেন তিনি।
আসন্ন এই দীর্ঘ সঙ্গীত সফর নিয়ে সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের উচ্ছ্বাস ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইমরান। তিনি জানান, আগামী ২১ জুলাই আমেরিকার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন তারা। দীর্ঘ দুই মাসের এই সফর শেষে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। পুরো আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে প্রবাসীদের গান শোনাবেন তাঁরা। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫টির মতো কনসার্ট বা শো চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আয়োজকদের আগ্রহের কারণে সফরের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, কনসার্টের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদেশের মাটিতে পারফর্ম করার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইমরান বলেন, “দেশের বাইরের শো করার অভিজ্ঞতা সব সময়ই অন্য রকম ও দারুণ রোমাঞ্চকর হয়। এর মূল কারণ ওখানকার প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিগুলো অত্যন্ত আবেগ ও যত্ন নিয়ে এই শোগুলোর আয়োজন করে। ঘরের বাইরে বহুদূরে গিয়ে নিজেদের চেনা মানুষদের গান শোনানোর আনন্দই আলাদা, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। তার ওপর সেটা যদি আমেরিকার মতো প্রথম বিশ্বের দেশ হয়, তবে ভালো লাগা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিছুদিন আগেই আমরা অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকটি শো করে এসেছি, সেখানকার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। এবার আমেরিকা যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত ১৫-১৬টা শো চূড়ান্ত হয়েছে, আশা করছি সংখ্যাটা আরও কিছু বাড়বে।”
আমেরিকার বিশাল ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং শ্রোতাদের ভিন্ন রুচির কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই গায়ক। তিনি বলেন, “আমেরিকা এক বিশাল দেশ। সেখানকার একেক অঙ্গরাজ্যে গড়ে ওঠা বাঙালি কমিউনিটির ধরন যেমন আলাদা, তেমনি তাদের সাংস্কৃতিক রুচিতেও কিছু ভিন্নতা থাকে। আবার অনেক সময় বাঙালিদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের মানুষও আমাদের গান শুনতে আসেন। তাই একেক জায়গার দর্শকদের চাহিদা ও মানসিকতার কথা মাথায় রেখে আমরা গানের তালিকায় পরিবর্তন আনি। কিছু গানের কম্পোজিশনেও ভিন্নতা রাখা হয়, যাতে ভাষা না বুঝেও সবাই সুরের ছন্দে আমাদের পরিবেশনা উপভোগ করতে পারেন।”
বিদেশের মাটিতে নিয়মিত সফর করলেও ইমরান একটি বিষয়ে কোনো আপস করেন না, আর তা হলো লাইভ মিউজিকের মান। তিনি সবসময় নিজের পুরো ব্যান্ড দল নিয়েই এই সফরগুলো সম্পন্ন করেন। ইমরানের মতে, এককভাবে গিয়ে ট্র্যাকের ওপর গান গাওয়ার চেয়ে পুরো ব্যান্ডের লাইভ ইন্সট্রুমেন্টের সাথে গাওয়ার মজাই আলাদা। এর ফলে প্রবাসে থাকা শ্রোতারা দেশীয় গানের আসল স্বাদ ও সঠিক কম্পোজিশনটি উপভোগ করার সুযোগ পান।
জনপ্রিয় এই গায়কের দল ‘আইকিংস’-এর লাইনআপও বেশ চমৎকার। ব্যান্ডটিতে ইমরান মাহমুদুল নিজে মূল কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পারফর্ম করার পাশাপাশি গিটারও সামলান। দলের অন্য সদস্যরা হলেন—ড্রামসে সজল কুমার সাহা, কিবোর্ডে কাইয়ুম খান, লিড গিটারে রাজীব ঘোষ এবং বেজ গিটারে জাহাঙ্গীর আলম জনি। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করায় তাঁদের মধ্যকার বোঝাপড়াটাও বেশ জোরালো, যা মঞ্চে দারুণ আবহ তৈরি করে।
আমেরিকার এই মেগা সফর শেষ করার পরও বিশ্রামের সুযোগ নেই এই দলের। সামনের দিনগুলোতে আরও বেশ কিছু দেশে বড় পরিসরে শো করার বিষয়ে আলোচনা চলছে তাঁদের। খুব শিগগিরই মালয়েশিয়ায় একটি বড় কনসার্টে অংশ নেবে আইকিংস। এ ছাড়া আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের দিকে পুরো ইউরোপ জুড়ে একটি মিউজিক্যাল ট্যুর বা সঙ্গীত সফরের বড় পরিকল্পনা রয়েছে এই কণ্ঠশিল্পীর। সুস্থ ধারার বাংলা গান বিশ্বমঞ্চে প্রবাসীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে চান তাঁরা।









