গ্যাসের তীব্র সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি একাধিক দিন অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ চালকেরা আজ শুক্রবার ভোর থেকেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ ষোলশহর মোড়ে সড়কে নেমে আসেন। শত শত চালকের এই অবস্থানের ফলে মুরাদপুর থেকে ২ নম্বর গেইট পর্যন্ত পুরো সংযোগ সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। আকস্মিক এই সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই তীব্র যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
চালকদের দাবি, নগরীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। কখন বা কীভাবে এই সংকটের সমাধান হবে, সে বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষও কোনো স্পষ্ট বার্তা দিতে পারছে না। ফলে উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।
ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে সরেজমিনে দেখা যায় অটোরিকশার দীর্ঘ সারি। পাম্পের সামনে অপেক্ষারত অটোরিকশাচালক তারেক মিয়া জানান, টানা দুই দিন গাড়ি চালনা বন্ধ থাকায় তার আয়-রোজগার একপ্রকার থমকে গেছে। পরিবার চালানোর দৈনন্দিন খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি এখন দিশেহারা। সারারাত না ঘুমিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক চালক বাদশা মিয়া বলেন, অনিশ্চিত এই অপেক্ষার কোনো ইতি টানা যাচ্ছে না। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূল সঞ্চালন লাইনে চাপ বা সরবরাহ কম থাকায় তারা চালকদের জ্বালানি দিতে পারছেন না। জাতীয় বা স্থানীয় সরবরাহ লাইন থেকে গ্যাস না এলে তাদের পক্ষে সিএনজি বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে জানান তারা।
গ্যাসের এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থায়। রাস্তাঘাটে সিএনজি অটোরিকশার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় অফিসগামী ও জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। মোড়ে মোড়ে যানবাহনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, পুলিশের একাধিক দল সড়কে গিয়ে চালকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা যায়। তবে ক্ষুব্ধ চালকদের স্পষ্ট বার্তা—গ্যাস পাওয়ার বা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।









