জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: চূড়ান্ত শুনানিতে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ

বহুল আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও পৈশাচিক হত্যা মামলার বিচারিক কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল একসাথে শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী রোববারের (১৬ আগস্ট) কার্যতালিকায় ২২ নম্বর ক্রমিকে মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিচারে বিলম্ব এড়ানো এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের এই উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, বিচারাঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী দেশের আরও দুটি স্পর্শকাতর মামলা—ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি এবং মাগুরার শিমু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই দুই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই আদালত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার শুনানি শুরু করবেন।

হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার আইনি প্রক্রিয়া নিখুঁত রাখতে বিচারিক প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে ওই একই বেঞ্চ আসামিদের রাষ্ট্রীয় খরচে আইনি সহায়তা দিতে ‘স্টেট ডিফেন্স’ নিয়োগের জন্য সলিসিটর দপ্তরকে তাগিদ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের আলোকে গত ২৫ জুন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করতে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মামলার নথি ও নিম্ন আদালতের নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শেষে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং অপরাধে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করার দায়ে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যবেক্ষণ করে ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন উভয় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

নিম্ন আদালতের ওই আদেশের পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দী আছেন। বিচারিক আদালতের সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ বহাল থাকবে নাকি আপিলে নতুন কোনো মোড় আসবে—তা জানার জন্য এখন দেশবাসীর নজর রোববার হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চের দিকে।

Tags :

Md. Sakib

Recent News