খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুন ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর খেলা সম্পন্ন হওয়ার পর ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের অফিশিয়াল পাওয়ার র্যাংকিং প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে দুর্দান্ত সূচনা করে এই পাওয়ার র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও বর্তমান বিশ্বজয়ী তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের নিজেদের প্রথম ম্যাচে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। ম্যাচজুড়ে তাঁর এই প্রভাবশালী ও শৈল্পিক পারফরম্যান্সের বিষয়টি ফিফার টেকনিক্যাল মূল্যায়নেও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
Table of Contents
ফিফার অফিশিয়াল তথ্যনির্ভর পারফরম্যান্স সূচকে মাঠের ফুটবলারদের অবদানকে প্রধানত তিনটি সুনির্দিষ্ট বিভাগে ভাগ করে মূল্যায়ন করা হয়। এই বিভাগগুলো হলো—আক্রমণ (অ্যাটাকিং), সৃজনশীলতা (ক্রিয়েটিভিটি) এবং রক্ষণভাগ (ডিফেন্ডিং)। প্রতিটি ম্যাচে একজন ফুটবলারের অন-ফিল্ড অ্যাক্টিভিটির ডেটা বিশ্লেষণ করে এই রেটিং প্রদান করা হয়ে থাকে।
ফিফার এই আধুনিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন সূচকে আক্রমণভাগে ১০-এর মধ্যে ৮.১৩ রেটিং পয়েন্ট পেয়ে টুর্নামেন্টের অন্য সব ফুটবলারকে পেছনে ফেলে সবার ওপরে অবস্থান করছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি অধিনায়ক। তাঁর এই উচ্চ রেটিং পয়েন্ট মূলত আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখা এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সফল বহিঃপ্রকাশ।
ফিফা কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম ম্যাচের এই পাওয়ার র্যাংকিং তালিকায় লিওনেল মেসির ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইলাইজাহ জাস্ট। মাঠের খেলায় দারুণ কার্যকারিতা প্রদর্শন করে ১০-এর মধ্যে ৭১৭৪ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছেন নিউজিল্যান্ডের এই তারকা ফুটবলার।
অন্যদিকে, তালিকার তৃতীয় অবস্থানে নিজের নাম লিখিয়েছেন আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো। প্রথম ম্যাচে দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ৭.৪৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন এই আফ্রিকান ফরোয়ার্ড। প্রথম রাউন্ডের খেলা শেষে আক্রমণ ও সৃজনশীলতার নিরিখে এই তিন ফুটবলারই ফিফার সূচকে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে দলের তিনটি গোলই আসে লিওনেল মেসির পা থেকে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা মেসি ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।
এরপর ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে খেলা ধীরগতির হলে ৬০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন তিনি। সর্বশেষ ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেদ করে গোল করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ১১তম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সঙ্গে ফুটবল মহোৎসব বা বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এটিই লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সর্বপ্রথম হ্যাটট্রিক।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে করা এই চমৎকার তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই ১৬টি গোল করার মাধ্যমে মেসি জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন।
এর আগে এককভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসা। তবে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করার পর বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার বিশ্ব রেকর্ডে এখন যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন লিওনেল মেসি এবং মিরোস্লাভ ক্লোসা। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গোল করলে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষস্থান নিজের করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে মেসির সামনে।
মন্তব্য