ইসলামী ব্যাংক থেকে নাবিল গ্রুপের বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ ও পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ ফেরত না আসা নিয়ে জাতীয় সংসদে গুরুতর অভিযোগ ও অনিয়মের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নাবিল গ্রুপ এলসির বিপরীতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে, পরবর্তীতে পণ্য বিক্রির পরও সেই অর্থ ব্যাংকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, এই অর্থ কোথায় গেছে তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা রয়েছে। তার ভাষায়, “দুষ্টু লোকেরা বলে—সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে এবং সেই অর্থ দিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ওই টেলিভিশন চ্যানেলের অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কে জনমনে ইতোমধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, নাবিল গ্রুপের ব্যাংক দায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য রয়েছে। একইসঙ্গে লান্তাবুর গ্রুপ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে, যার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিমানের টিকিট ক্রয়ের মতো খাতে এই তহবিলের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
সংসদে আলোচনার সময় তিনি ইসলামী ব্যাংকের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করা হয়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর মধ্যে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা ও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে এর পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগে বিতরণ করা অর্থের পরিমাণের সঙ্গে পরবর্তীতে আরও অর্থ যুক্ত হয়েছে, যা মোট বিতরণকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে।
সংসদের ওই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার বিকেলে, স্পিকারের সভাপতিত্বে। সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য ও অভিযোগ উপস্থাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব অনিয়মের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগ ও অর্থসংক্রান্ত তথ্যের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাবিল গ্রুপের ঋণ | এলসির বিপরীতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা |
| ঋণ পরবর্তী অবস্থা | পণ্য বিক্রির পরও ব্যাংকে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ |
| মোট ব্যাংক দায় | প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা (উল্লেখিত) |
| লান্তাবুর গ্রুপ | নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা ঋণ, অনুমোদনবিহীন বলে অভিযোগ |
| সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল | বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের অভিযোগ |
| উন্নয়ন প্রকল্প | গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নভিত্তিক অর্থ বিতরণ কার্যক্রম |
| মোট বিতরণ অর্থ | প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা (উল্লেখিত) |
এসব বক্তব্য ও তথ্য সংসদীয় আলোচনায় উপস্থাপিত অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।