ইরানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হয়।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি দেশের নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা, সশস্ত্র বিদ্রোহে অংশগ্রহণ, গুলি চালানো এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট এবং একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করে। পরে দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ সেই রায় বহাল রাখে এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইরানে জাতীয় নিরাপত্তা, সশস্ত্র হামলা, বিদ্রোহ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হয়। দেশটির দণ্ডবিধিতে এমন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার নজির রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দাবি করে, দেশটিতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় অনেক সময় কঠোর সাজা দ্রুত কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে ইরান সরকার বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সহিংসতা দমনে কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
নিচে অভিযোগগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| অভিযোগ | বিবরণ |
|---|---|
| রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নের চেষ্টা | সংগঠিতভাবে নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা |
| সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যপদ | নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা |
| সশস্ত্র বিদ্রোহ | অস্ত্র ব্যবহার করে সহিংস কার্যক্রমে অংশগ্রহণ |
| গুলি চালানো | নিরাপত্তা পরিস্থিতি নষ্টে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ |
| হত্যাচেষ্টা | সন্ত্রাসী লক্ষ্য বাস্তবায়নে হামলার পরিকল্পনা |
ইরানের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগ ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। একই সঙ্গে সরকার দাবি করছে, দেশের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।
