ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ এক সহিংস ঘটনায় দুই সহোদর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিকল্পিতভাবে একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের ছয়তলা এলাকার একটি ভার্চুয়াল পোশাক কারখানার পাশের গলিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো সংঘর্ষ, হুমকি ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেওয়ার ঘটনা ঘটছিল। সেই ধারাবাহিক বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার শিকার দুই সহোদর হলেন মো. ইসমাইল (৩৫) এবং মো. শিপন (৩২)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি যানবাহনে করে আসা একদল যুবক প্রথমে ইসমাইলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার পিঠ ও ডান পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই একই দল আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে শিপনের ওপরও গুলি চালায়। এতে তার ডান উরু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো হামলা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করে দুর্বৃত্তরা দ্রুত সরে পড়ে।
স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুইজনের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সবুজ সরকার জানান, শিপন তার সঙ্গে কাজ করতেন। তিনি বলেন, এমন নৃশংস হামলার পেছনের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। তবে সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আহত ব্যক্তি | মো. ইসমাইল, মো. শিপন |
| বয়স | ৩৫ বছর, ৩২ বছর |
| ঘটনার সময় | মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা |
| স্থান | ইয়ারপুর ইউনিয়ন, আশুলিয়া |
| আঘাতের স্থান | পিঠ, ডান পা, ডান উরু |
| চিকিৎসা কেন্দ্র | রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল |
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধই এই হামলার পেছনে মূল কারণ হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, কারণ তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
