২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে উয়েফা। গত বুধবার সংস্থাটি জানায়, আগামী বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই স্তরভিত্তিক একটি নতুন পদ্ধতি চালু করা হবে, যা বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগের সংস্করণের সঙ্গে অনেকাংশে মিল রাখে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাছাইপর্বের শীর্ষ স্তরে থাকবে মোট ৩৬টি দেশ। এই দলগুলো নির্বাচন করা হবে ২০২৮–২৯ মৌসুমে পুনর্গঠিত নেশনস লিগে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। শীর্ষ ৩৬টি দলকে তিনটি পৃথক গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ১২টি করে দল।
প্রতিটি দল তাদের গ্রুপে ছয়টি করে ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলবে। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ হবে নিজ মাঠে এবং তিনটি হবে প্রতিপক্ষের মাঠে। প্রতিটি পট থেকে দুটি করে প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হবে। লিগ ওয়ানের তিনটি গ্রুপের শীর্ষ দলগুলো সরাসরি ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। বাকি স্থানগুলো নির্ধারণ করা হবে প্লে-অফের মাধ্যমে।
র্যাঙ্কিংয়ে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা আরও ১৮টি দেশ থাকবে দ্বিতীয় স্তরে, অর্থাৎ লিগ টুতে। এই স্তরের দলগুলোরও বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সুযোগ থাকবে প্লে-অফ ব্যবস্থার মাধ্যমে।
উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন নতুন এই কাঠামো সম্পর্কে বলেন, এটি দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য বৃদ্ধি করবে এবং অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সংখ্যা কমাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সূচিতে অতিরিক্ত কোনো দিন না বাড়িয়েই প্রতিটি দেশের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
নেশনস লিগেও বড় পরিবর্তন
বাছাইপর্বের পাশাপাশি নেশনস লিগের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে চার স্তরের পরিবর্তে তিন স্তরের কাঠামো চালু হবে, যেখানে প্রতিটি স্তরে থাকবে ১৮টি করে দল। প্রতিটি স্তর আবার তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি দল।
প্রতিটি দল পাঁচটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলবে। ভিন্ন পটের দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচগুলো হবে হোম বা অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। তবে একই পটের দলগুলোর বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ—একটি ঘরে এবং একটি বাইরে—খেলতে হবে।
নেশনস লিগের বর্তমান কাঠামোর কোয়ার্টার ফাইনাল, ফাইনাল ফোর (সেমিফাইনাল ও ফাইনাল), অবনমন, উত্তরণ এবং প্লে-অফ পদ্ধতি অপরিবর্তিত থাকবে।
নতুন বাছাই কাঠামোর সারসংক্ষেপ
| বিষয় | শীর্ষ স্তর (লিগ ওয়ান) | দ্বিতীয় স্তর (লিগ টু) |
|---|---|---|
| দল সংখ্যা | ৩৬টি দেশ | ১৮টি দেশ |
| গ্রুপ সংখ্যা | ৩টি গ্রুপ | নির্ধারিত কাঠামো |
| প্রতি গ্রুপে দল | ১২টি | প্রযোজ্য নয় |
| ম্যাচ সংখ্যা | ৬টি করে ম্যাচ | ৬টি করে ম্যাচ |
| বিশ্বকাপে সুযোগ | গ্রুপ শীর্ষ দল সরাসরি + প্লে-অফ | প্লে-অফের মাধ্যমে সুযোগ |
এই নতুন কাঠামো অনুযায়ী ইউরোপীয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সংগঠিত রূপ পাবে বলে উয়েফা জানিয়েছে।
