খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক কিশোর অটোরিকশাচালকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের নবগ্রাম কাশতা গোলাই এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুল ইসলাম (১৭) নামে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ও দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সূত্র ধরে তল্লাশি চালিয়ে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ভিন্ন ভিন্ন তিনটি স্যান্ডেলকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বপন (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
নিহত সাকিবুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের রহমত ওরফে টুলুর ছেলে। জীবিকার তাগিদে সে এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাত।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নবগ্রাম কাশতা গোলাই এলাকায় রাস্তার পাশে একটি অটোরিকশা উল্টে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। গভীর রাতে জনমানবহীন জায়গায় গাড়িটি ওভাবে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সিংগাইর থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অটোরিকশার আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে পাশের একটি পাটক্ষেতের ভেতর সাকিবুলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ জানায়, শুরুতে নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপরই তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা তিনটি স্যান্ডেল নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্যান্ডেলগুলো সেখানে রয়ে যায়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর পুলিশ বুধবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে বাইরে থেকে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে স্বপন নামে এক ফার্নিচার ডিজাইনারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মূল অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় নিহত সাকিবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য