খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর ফরেস্ট গেইট এলাকায় দিনে-দুপুরে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ব্যস্ততম এই এলাকায় প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম আজাদ (২৫)। তিনি পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ির আবদুর রশীদের ছেলে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আজাদ মুরাদপুর ফরেস্ট গেইট এলাকার রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে পেছন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক বা একাধিক অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।
আজাদ গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগী ও স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আজাদকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছোটেন। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মুরাদপুর ফরেস্ট গেইট এলাকায় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আমরা গুলির এই ঘটনাটি জানতে পারি। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, নিহত যুবকের মরদেহ বর্তমানে চমেক হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পূর্বশত্রুতা, স্থানীয় কোনো বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে এই নৃশংসতা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি পুলিশ এই ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
দিনদুপুড়ে শহরের এমন একটি জনাকীর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে খুনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য