দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা কমিটির নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মিনহাজ হাসানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক অপর দুজন মমিন হোসেন ও আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার সাতকুড়ি রেলগেট ও খট্টামাধবপাড়া এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিনহাজ হাসান হিলি উপজেলার লোহাচড়া গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি এর আগে খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিতে সহসভাপতির দায়িত্ব পান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হাকিমপুর থানা পুলিশ জানায়, ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় খট্টামাধবপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিনহাজ হাসানকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের কার্যক্রম ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে। কোথাও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মিনহাজ হাসানকে আটকের ঘটনাটিও সেই নজরদারি ও অভিযানের অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, একই রাতে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে মমিন হোসেন ও আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়। মমিন হোসেন সাতকুড়ি গ্রামের মৃত হবিবর রহমানের ছেলে। আরিফ হোসেন ঘাসুরিয়া গ্রামের মৃত আনিছ মিয়ার ছেলে। পুলিশের দাবি, দুজনই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নজরদারিতে ছিলেন। অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেই ধারাবাহিকতায় মিনহাজ হাসানকে আটক করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মমিন হোসেন ও আরিফ হোসেনকে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে পৃথক অভিযানে আটক করা হয়েছে। মাদকের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের অভিযানও অব্যাহত থাকবে।
হিলি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় হাকিমপুর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সীমান্তকে কেন্দ্র করে বৈধ বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকি থাকায় মাদক পাচার ও অবৈধ কারবার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। শুধু আটকের ভিত্তিতে কারও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনকে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে। হাকিমপুর থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা ঠেকাতে অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।









