খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে যমজ তিন ভাইবোন। একই সঙ্গে দুই ভাই ও এক বোন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করায় পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।
সাফল্য অর্জনকারী তিন শিক্ষার্থী হলো ফাতেমা আক্তার শেমী, আনাস আল মামুন ও আরাফাত আল মামুন। তিনজনেরই বয়স ১২ বছর। তারা সখীপুর পৌরসভার উত্তরা মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. শামীম ও আর্জিনা আক্তার দম্পতির সন্তান।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তারা উপজেলার বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। একই পরিবারের তিন সন্তানের এমন সাফল্য এলাকায় প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে ফাতেমা, আনাস ও আরাফাত সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভর্নমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই তারা পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিল বলে জানিয়েছেন পরিবার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
তাদের মা আর্জিনা আক্তার নিজেও একজন শিক্ষক। তিনি উপজেলার ঘাটেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। সন্তানদের এই সাফল্যের পেছনে নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।
আর্জিনা আক্তার বলেন, সন্তানদের এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান অনেক। তারা সবসময় শিক্ষকদের পরামর্শ অনুসরণ করেছে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখেছে। স্বামী বিদেশে অবস্থান করলেও সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেন এবং উৎসাহ দেন। ভবিষ্যতে তার সন্তানরা যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে পারে—এটাই তার প্রত্যাশা।
বহেড়াতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন, তিন ভাই-বোনই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ, নিয়মিত অনুশীলন এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলার মানসিকতা তাদের এই সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এমন অর্জন সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই পরিবারের তিন সন্তানের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া বিরল ঘটনা। তাদের এই সাফল্য এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফল করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশা করছেন।
পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই তিন শিক্ষার্থী তাদের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনবে।
মন্তব্য