খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ৩:১৯ পিএম

রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বুধবার দুপুর থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। বেলা একটার কিছু পর থেকেই তারা ছোট ছোট দলে সেখানে জড়ো হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার তারেক আহমেদ বেগ। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
সাম্প্রতিক এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে কয়েক দিন ধরে চলমান অসন্তোষের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে, কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এসব পরিস্থিতি পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় বলে তাদের দাবি।
পরীক্ষা আয়োজনের সময়সূচি ছাড়াও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুল, অসংগত তথ্য এবং প্রশ্নের মান নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার হলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ত্রুটি দ্রুত পর্যালোচনা করে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সমাবেশ এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা দিনভর অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন। সন্ধ্যার পরও কয়েকটি এলাকায় তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
মঙ্গলবার রাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থী পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে। তারা জানান, নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত না করা হলে বুধবার বেলা তিনটা থেকে ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের তৎপরতা বাড়তে থাকে। উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনের সমাবেশকে সেই ঘোষিত কর্মসূচির প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি সামনে এনেছেন। তাদের অন্যতম দাবি, শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ। একই সঙ্গে তারা পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান, প্রশ্নপত্রের ত্রুটির যথাযথ মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের কারণে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বক্তব্য, শুধু দুঃখ প্রকাশে পরিস্থিতির সমাধান হবে না; তারা পরীক্ষা-সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বাস্তবসম্মত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি চান। তাদের মতে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থেকে সমাবেশ পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচি, সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
এই আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে শিক্ষা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় তার ওপর। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ ও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের পথ সহজ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
মন্তব্য