রাজধানীর মুগদা এলাকার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মানবদেহের সাতটি খণ্ডাংশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই এলাকা থেকে মরদেহটির মাথাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারাবাহিকভাবে দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে মানিকনগরের পাকা রাস্তার মাথায় দুটি বাড়ির মাঝখানের একটি ফাঁকা স্থান থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার বিকেলে একই এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মানবদেহের সাতটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলগুলো কাছাকাছি হওয়ায় পুলিশ ধারণা করছে, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর পরিকল্পিতভাবে মরদেহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
মুগদা থানার উপপরিদর্শক আবু রায়হান জানান, প্রথম দফায় দেহাংশ উদ্ধারের পর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাতভর তল্লাশি ও অনুসন্ধান চালিয়ে মাথাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে রাখার উদ্দেশ্য হতে পারে পরিচয় গোপন রাখা এবং তদন্তকে জটিল করে তোলা।
উদ্ধার হওয়া মাথাসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, হত্যার সময় এবং ব্যবহৃত পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
এখনও নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বলছে, দেহের অবস্থা মারাত্মকভাবে বিকৃত এবং খণ্ডিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে সম্ভাব্য স্বজনদের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা যাচাই এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের কাজও শুরু হয়েছে। অপরাধে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার ধরন থেকে আলামত নষ্ট বা বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য, সময় এবং জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | মুগদা, মানিকনগর এলাকা, ঢাকা |
| প্রথম উদ্ধার | খণ্ডিত মানবদেহের ৭টি অংশ |
| পরবর্তী উদ্ধার | কালো পলিথিনে মোড়ানো মাথা |
| মাথা উদ্ধারের সময় | দিবাগত রাত প্রায় ২:৩০টা |
| মরদেহ পাঠানো হয়েছে | ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে |
| পরিচয় শনাক্ত | এখনো সম্ভব হয়নি |
| তদন্তের অগ্রগতি | ডিএনএ পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি পর্যালোচনা |
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি ফরেনসিক তথ্য বিশ্লেষণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
