ভিসা বন্ড পাঠাতে এলো নতুন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা

বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন ও অন্যান্য অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড এবং ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে দেশের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার (১০ মে) জারি করা এক পরিপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তিকে ভিসা প্রদানের শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে জমা রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এখন থেকে ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় ওই অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো আবেদনকারীর ভিসা অনুমোদনের পূর্বশর্ত হিসেবে ভিসা বন্ড বা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক আবেদনকারীর পক্ষে সেই অর্থ প্রেরণের অনুমোদন দিতে পারবে। এই অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বা ভার্চ্যুয়াল কার্ড ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর নামে আন্তর্জাতিক কার্ড অথবা ভার্চ্যুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে। এসব কার্ডে প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ আগাম জমা রাখা যাবে, যাতে দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে সহজে অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়।

এছাড়া যেসব গ্রাহকের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক কার্ড রয়েছে, তারা বিদ্যমান কার্ডেও ভ্রমণ কোটার আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থ পুনরায় জমা করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, এই অর্থ কেবলমাত্র ভিসা-সংক্রান্ত বন্ড বা ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা আমানত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো লেনদেন বা ব্যক্তিগত ব্যয়ের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যখন জমাকৃত বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত দেবে, তখন সেই অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যাংককে এ ধরনের লেনদেনের জন্য পৃথক নিবন্ধন সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে জমাকৃত অর্থ ফেরতের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে ফেরতযোগ্য অর্থ যথাসময়ে দেশে আসে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম না ঘটে।

অর্থ পাঠানোর আগে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈধ পাসপোর্ট, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র, ইনভয়েস বা অর্থ জমার প্রয়োজনীয়তার প্রমাণপত্র। পাশাপাশি ভিসা আবেদনসংক্রান্ত রেফারেন্স নম্বর অথবা স্বীকৃতিপত্র সংগ্রহের কথাও বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারী সত্যিই ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অর্থ পাঠাচ্ছেন এবং জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

এই সুবিধা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত অর্থায়নের উৎসও উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব অথবা এসব হিসাবের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে পারবেন।

নতুন এই নির্দেশনার ফলে বিদেশে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় যেসব আবেদনকারীকে বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে হয়, তাদের জন্য অর্থ প্রেরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।