উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় এবং ভালো কর্মসংস্থানের প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সীমান্ত পথে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার হওয়া ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে ভারতের পেট্রাপোল অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ভ্রমণ অনুমোদনপত্র বা ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাঁদের বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা এই সকল নাগরিকদের মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ই রয়েছেন এবং তাঁরা দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলার বাসিন্দা।
Table of Contents
অভিবাসন প্রক্রিয়া ও আইনি হস্তান্তর
ফেরত আসা ব্যক্তিদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোর্তজা আলী গণমাধ্যমকে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর ফেরত আসা ১৪ জন বাংলাদেশির প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি অভিবাসন কার্যক্রম বা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সমস্ত দাপ্তরিক কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে ওই রাতেই থানা পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রেখে এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ফেরত আসা ব্যক্তিদের জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামক একটি মানবধিকারভিত্তিক বেসরকারি সংস্থার কাছে আইনি হেফাজতে তুলে দেয়।
প্রলোভন ও উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিবরণ
বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোল শাখার অন্যতম প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম এই ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং ভুক্তভোগীদের ভারতের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, উন্নত জীবনযাপনের আশায় এবং ভালো বেতনে কাজের প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে এই বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন। তাঁরা কোনো বৈধ নথিপত্র বা পাসপোর্ট ছাড়াই দেশের বিভিন্ন গোপন সীমান্ত পথ ব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে কাজ করার সময় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাঁরা দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন।
আটক করার পর ভারতীয় পুলিশ তাঁদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে এবং সেখান থেকে তাঁদের ভারতীয় কারাগারে বা সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভারতের একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার বিশেষ আইনি তৎপরতা ও উদ্যোগে আদালতের মাধ্যমে ওই বাংলাদেশিদের কারাগার থেকে মুক্ত করা হয়। মুক্তির পর তাঁদের সরাসরি কোনো মুক্ত স্থানে না রেখে ভারতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা শেল্টার হোমে রাখা হয়েছিল। এরপর দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ ভ্রমণ অনুমোদনপত্র বা ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়। এর ফলেই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা নিজ দেশে ফিরে আসার সুযোগ লাভ করেন।
পুনর্বাসন ও পরবর্তী আইনি সহায়তা
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোল শাখা থেকে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দেশে ফেরত আসা এই সকল বাংলাদেশিকে কেবল গ্রহণ করাই শেষ নয়, বরং তাঁদের মানসিক ট্রমা থেকে মুক্ত করতে এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনমূলক সহযোগিতা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি যেসকল দালাল চক্র তাঁদের প্রতারণা করে বিদেশে পাচার করেছিল, সেই চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান করা হবে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যচিত্র
ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভৌগোলিক অবস্থান এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হলো:
| নির্দিষ্ট বিষয় ও বিবরণ | সংশ্লিষ্ট সঠিক তথ্য ও ফ্যাক্ট |
| ফেরত আসা মোট নাগরিকের সংখ্যা | ১৪ জন (নারী ও পুরুষ অন্তর্ভুক্ত) |
| নাগরিকদের আদি বাসস্থান ও জেলা | সুনামগঞ্জ, যশোর এবং কক্সবাজার |
| হস্তান্তরের নির্দিষ্ট সময় ও দিন | শুক্রবার, রাত ৮:০০ টা |
| হস্তান্তরকারী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ | পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ |
| গ্রহণকারী বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ | বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ |
| আইনি কার্যক্রমের পরবর্তী থানা | বেনাপোল পোর্ট থানা |
| সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা | জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার |
| ভারতে বাংলাদেশিদের আটক হওয়ার কারণ | দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ |
| কারাগার থেকে মুক্তির পর অবস্থান | ভারতের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা শেল্টার হোম |
| স্বদেশে ফেরার আইনি মাধ্যম | দুই দেশের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ভ্রমণ অনুমোদনপত্র |
| ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা | ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা |
