পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে।
ভুক্তভোগী লিপি আক্তার (২৭) অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। তার সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী শাহ জামাল (৩৫) দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ সময় শ্বশুর মোসলেম মৃধা (৭০) প্রায়ই এই নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন লিপি আক্তারকে হাত-পা বেঁধে একটি যাত্রীবাহী ছোট যানবাহনে তোলা হয় এবং সেখানে তাকে মারধর করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে অভিযুক্তদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি হেলাল মৃধা (৬৫) আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুর মোসলেম মৃধা তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার একটি ধারণকৃত দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নারীকে মারধর করা হচ্ছে এবং তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।
ভুক্তভোগী লিপি আক্তার চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, স্বামী দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ভুক্তভোগীকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় হাত-পা বেঁধে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগী | লিপি আক্তার (২৭) |
| অভিযুক্ত | শাহ জামাল (৩৫), মোসলেম মৃধা (৭০) |
| স্থান | বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন, চরহোসনাবাদ গ্রাম |
| ঘটনা | হাত-পা বেঁধে মারধর ও অপহরণের চেষ্টা |
| উদ্ধারকারী | স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ |
| আহত | হেলাল মৃধা (৬৫) |
| চিকিৎসা স্থান | উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
দশমিনা থানার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে বিরোধ ও নির্যাতন চলছিল বলে জানা যায়। সর্বশেষ ঘটনায় গুরুতর নির্যাতনের পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
