টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। দেশের মাটির পাশাপাশি বিদেশের কঠিন কন্ডিশনেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে লাল-সবুজের দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে পাওয়া ঐতিহাসিক জয় সেই আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। এবার সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। কঠিন কন্ডিশনের কারণে এই সফর বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হলেও সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, সেখানেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারবে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে মাত্র ১১ সেশনে ৯ উইকেটের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এশিয়ার কোনো দলের দ্রুততম সময়ে টেস্ট জয়ের রেকর্ডও গড়েছিল তারা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেই দাপুটে পারফরম্যান্স বাংলাদেশের বিদেশের মাটিতে খেলার সক্ষমতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
ডি ভিলিয়ার্সের দৃষ্টিতেও এই জয় গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন পরিবেশেও ভালো করার প্রেরণা জোগাবে।
এক পডকাস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক বলেন, তাঁর বিশ্বাস দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দেবে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বিশ্বের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে ব্যাটারদের জন্য।
দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, সেখানে বল শুধু বাতাসে দুলে থেমে থাকে না; পিচে পড়ার পরও সিম মুভমেন্ট তৈরি করতে পারে। ফলে ব্যাটারদের জন্য বলের গতিপথ ও আচরণ বুঝে শট খেলা কঠিন হয়ে ওঠে। এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে বিশ্বের অনেক ব্যাটারই নিয়মিতভাবে অভ্যস্ত নন।
ডি ভিলিয়ার্সের মতে, এমন কন্ডিশনে সফল হতে হলে শুধু ক্রিজে টিকে থাকার চেষ্টা করলেই হবে না। ব্যাটারদের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের কৌশল বদলাতে হবে। বল কোথা থেকে আসছে, পিচে কী ধরনের আচরণ করছে এবং বোলার কীভাবে আক্রমণ করছে—এসব বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নিজের খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে ব্যাট করার সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি একাধিক কৌশল ব্যবহার করতেন। কখনো ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে বল মোকাবিলা করতেন, কখনো স্টাম্প পুরোপুরি ঢেকে রাখতেন। আবার পরিস্থিতি বুঝে কখনো স্টাম্প উন্মুক্ত রেখেও খেলতেন। তাঁর মতে, ব্যাটারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া।
বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফর তাই ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই বড় পরীক্ষা হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্য দলকে আত্মবিশ্বাস দেবে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্স, সুইং ও সিম মুভমেন্ট সামলাতে ব্যাটারদের ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেসারদেরও প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ থাকবে।
সূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে। দুই ম্যাচের এই সিরিজে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে বিদেশের মাটিতে সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় বাংলাদেশের টেস্ট দলের আত্মবিশ্বাসের বড় প্রমাণ হয়ে এসেছে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে সেই আত্মবিশ্বাস কতটা কাজে লাগে, সেটিই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা। ডি ভিলিয়ার্সের বিশ্বাস, চ্যালেঞ্জ কঠিন হলেও বাংলাদেশ সেখানে লড়াই করার মতো সামর্থ্য রাখে।









