জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ডোবায় শিশুর মরদেহ উদ্ধার: ময়নাতদন্তে হত্যা নিশ্চিত, গ্রেপ্তার চার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা শিশুর মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে রোববার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আতিকুল কাজী (৩২), শান্ত কাজী (২৩), হাবিব কাজী (২১) এবং শিউলী (৩৫)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন বিকেল থেকে শিশুটি আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আড়াইহাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২২ জুন সকালে স্থানীয় কিছু মানুষ বাড়ির পাশের একটি ডোবায় শিশুটির নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল যে এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ ডোবার পানিতে লুকিয়ে রেখেছিল।
অবশেষে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরিবারের সেই অভিযোগই সত্য প্রমাণিত হলো। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে শিশুটিকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে হত্যার সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর পরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই চারজনকে আটক করা হয়।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শিশুটিকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ইন্ধন রয়েছে কিনা কিংবা এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর