জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

রাকসু জিএস-এর খরচের হিসাব অবাস্তব: ছাত্রশিবির সভাপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজের কথা বলে বিশাল অংকের টাকা তুলে তা বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখানো হয়েছে, যার কোনো বাস্তবভিত্তিক যৌক্তিকতা নেই।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রশিবির সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, রাকসু জিএস দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে ব্যাংক বা তহবিল থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন। কিন্তু তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিদের তৈরি করা হিসাব এবং সার্বিক মূল্যায়নে এই ব্যয়কে সম্পূর্ণ ‘অবাস্তব’ ও অতিরিক্ত বলে মনে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী ক্যাম্পাসের অন্য সব দপ্তর মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে এই কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। এর বাইরে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে ব্যয় হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্যান্য দপ্তরের ওপর অনৈতিকভাবে আর্থিক দায় চাপিয়ে ব্যক্তিগত স্বচ্ছহীনতা বা অনিয়ম এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রশিবির সভাপতি। কোন কোন দপ্তরে ঠিক কত টাকা খরচ হয়েছে, তার শতভাগ তথ্য-প্রমাণসহ একটি সুনির্দিষ্ট হিসাব দ্রুত প্রকাশ করার জন্য জিএস-এর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত না হওয়ায় তার ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড এবং যেকোনো আর্থিক হিসাবের কোনো ধরনের দায় সংগঠন বা ছাত্রশিবির বহন করবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
তবে এই সংবাদ সম্মেলনে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে আনীত এসব আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ওই সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত আগামী রাকসু নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা, নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল একাডেমিক ক্যালেন্ডারে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি করা, ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন করা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত আবাসন ভাতা চালু করা, একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা এবং দীর্ঘদিনের স্থবির হয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সচল ও কার্যকর করা।
সংবাদ সম্মেলনে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীবসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি এবং সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক হিসাব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে শীর্ষ নেতাদের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ক্যাম্পাসজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর