রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর নিজের উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবলার মার্ক কুকুরেয়া। সোমবার (২৪ আগস্ট) ভালদেবেবাসে ক্লাবের স্পোর্টস সিটিতে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই তারকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
নতুন ক্লাবে প্রথম দিনটিকে নিজের পাশাপাশি পরিবারের জন্যও বিশেষ ও স্মরণীয় বলে বর্ণনা করেছেন কুকুরেয়া। দীর্ঘ অপেক্ষার পর রিয়ালের জার্সি পরার সুযোগ পাওয়ায় তিনি উচ্ছ্বসিত। বিশ্বের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের অংশ হতে পারাকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
পরিচয়পর্বের অনুষ্ঠানে কুকুরেয়া বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের মতো একটি ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মানের। দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর গত কয়েক সপ্তাহ তাঁর জন্য আনন্দের ছিল বলেও জানান তিনি। নতুন সতীর্থদের সঙ্গে কাজ করা এবং দলের হয়ে সাফল্য অর্জনের জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন।
কুকুরেয়া বলেন, রিয়ালের জার্সি পরা তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। অতীতে ক্লাবটি অসংখ্য শিরোপা জিতেছে, তবে ভবিষ্যতেও আরও সাফল্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই পথচলায় নিজের অবদান রাখতে চান এই স্প্যানিশ ফুটবলার।
নতুন ক্লাবের হয়ে মাঠে নামার অপেক্ষাও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রিয়ালের ঐতিহাসিক সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলার জন্য তিনি অধীর হয়ে আছেন। এর আগে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় হিসেবে এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ফলে স্টেডিয়ামটির পরিবেশ এবং রিয়াল সমর্থকদের আবেগ সম্পর্কে তাঁর ধারণা রয়েছে।
বার্নাব্যুতে প্রতিপক্ষ হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেন কুকুরেয়া। তাঁর মতে, রিয়ালের ম্যাচে এমন অনেক মুহূর্ত দেখা যায়, যখন মনে হয় সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। দ্রুত গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া এবং অসম্ভব মনে হওয়া পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসার এমন ক্ষমতাই রিয়ালকে আলাদা করে তোলে বলে মনে করেন তিনি।
রিয়ালের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিও কুকুরেয়ার বক্তব্যে উঠে আসে। প্রতিপক্ষ হিসেবে তিনি বহুবার সেই দৃশ্য দেখেছেন, এবার সেই দলেরই হয়ে এমন মুহূর্ত তৈরির অংশ হতে চান। বার্নাব্যুর দর্শকদের সামনে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগ্রহ তাই তাঁর কথায় বারবার প্রকাশ পেয়েছে।
নতুন ক্লাবে তাঁর লক্ষ্যও পরিষ্কার—দলের হয়ে যত বেশি সম্ভব সাফল্য অর্জন করা এবং শিরোপা জয়ে অবদান রাখা। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে প্রত্যাশার চাপ যে অনেক বেশি, সেটি অজানা নয়। তবে সেই চাপকে ভয় না পেয়ে বরং বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ হিসেবেই দেখছেন কুকুরেয়া।
অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাঁর নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। এখন অপেক্ষা মাঠে তাঁর অভিষেকের। বার্নাব্যুর আলো, সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং রিয়ালের জার্সি—সব মিলিয়ে কুকুরেয়ার সামনে শুরু হচ্ছে ক্যারিয়ারের এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।









