জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইট’ এর দাবি সরকারি সংস্থায় ৬ দিনে ২২৭ কোটি টাকার ঘুষ আদায়

সরকারি সংস্থায় প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ বা হয়রানির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা অধিকাংশ মানুষেরই রয়েছে। প্রশাসনিক খাতে জাঁকিয়ে বসা এই দুর্নীতিকে জনসমক্ষে প্রকাশ্যে আনতে এবং নাগরিকদের অধিকার সচেতন করতে সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের একটি নাগরিক উদ্যোগ।

বিদেশি একটি সফল ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সাইফ কবির ও শাহেদ শরীফ নামে দুই তরুণ উদ্যোক্তা সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে এই ডিজিটাল মাধ্যমটি গড়ে তুলেছেন। কোনো দেশি-বিদেশি এনজিওর তহবিল বা সরকারি অনুদান ছাড়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে এটি। মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ তথ্যমালা তৈরি করা।

প্ল্যাটফর্মটি চালুর মাত্র ছয় দিনের মাথায় নাগরিক প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মেলে। এই স্বল্প সময়েই সেখানে ৬ হাজার ২৮৩টি দুর্নীতির বিবরণ জমা পড়ে। অভিযোগগুলোতে উল্লেখিত দাবিকৃত ঘুষের সর্বমোট অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকারও বেশি। দেশজুড়ে জমা হওয়া এসব অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৪টি প্রতিবেদন এসেছে। তালিকার পরবর্তী শীর্ষে অবস্থান করছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগ। তবে জমা হওয়া তথ্যের একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিকও প্রকাশ পেয়েছে; তা হলো, অভিযোগকারীদের অন্তত ২৩ শতাংশ মানুষ অন্যায্য আর্থিক দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার সাহসিকতা দেখিয়েছেন।

অবশ্য উদ্যোক্তারা শুরুতেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই উদ্যোগটি কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিকল্প নয়। ওয়েবসাইটে যুক্ত প্রতিটি ঘটনার সাথে ‘যাচাই করা হয়নি’ বা ‘আনভেরিফায়েড’ সতর্কবার্তা স্পষ্টভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য আইনগত বিচার নিশ্চিত করা নয়, বরং দাপ্তরিক অনিয়মের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ গড়ে তোলা। ফলে সাধারণ নাগরিকরা আগে থেকেই জেনে নিতে পারেন যে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি অফিসে সেবা প্রাপ্তির অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে।

প্ল্যাটফর্মটিতে তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এখানে অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ব্যবহারকারীকে কোনো অ্যাকাউন্টে সাইন-আপ করতে হয় না, এমনকি ই-মেইল কিংবা ফোন নম্বর ব্যবহারেরও প্রয়োজন নেই। একইসাথে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর পথও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির নাম, পদবি বা পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ এখানে নেই। একটি নিবেদিত মডারেশন টিম জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে এবং ব্যক্তি সম্পর্কিত তথ্যাদি সরিয়ে দিয়ে কেবল ঘটনার সিস্টেমিক অনিয়মের অংশটি পাবলিক ভিউতে প্রকাশ করে।

মাত্র দুই মিনিট ব্যয় করে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে যে কেউ সাইটটিতে প্রবেশ করতে পারেন। কোনো ধরনের ই-মেইল বা অ্যাকাউন্ট খোলা ছাড়াই সরাসরি ‘অভিযোগ জানান’ বিভাগে গিয়ে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, দাবিকৃত অর্থ এবং ঘটনার বিবরণ নির্বাচন করে দেওয়া যায়। মডারেশনের পর তথ্যগুলো যুক্ত হয় সবার দেখার জন্য।

প্ল্যাটফর্মের সহ-উদ্যোক্তা সাইফ কবির মনে করেন, প্রতিটি নাগরিকের সোচ্চার হওয়া এবং বেআইনি অর্থ চাওয়া হলে তা সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার মানসিক জোর তৈরি করাই তাদের মূল সাফল্য। দুর্নীতির ভয়াবহতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই সুসংগঠিত অবস্থান আগামী দিনে দেশের শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর